• ‘বালুরঘাটের মানুষের থেকে ভালো ডবল ইঞ্জিনের স্বাদ কেউ পায়নি...’, সাংসদ সুকান্তকে কটাক্ষ অভিষেকের, ছুড়লেন চ্যালেঞ্জও
    এই সময় | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • বালুরঘাটের পদ্মের বদলে জোড়াফুল ফোটানোর লক্ষ্যে বড় ঘোষণা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষকে জেতালে জেলাবাসীর বড় দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতিও দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। অভিষেকের কথায়, বাংলার উন্নয়নের জোয়ার যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয় তার জন্য বালুরঘাটেও তৃণমূলের জেতা দরকার। একইসঙ্গে বালুরঘাটে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ থাকা সত্ত্বেও কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা এখানের মানুষ পেয়েছেন কি না? জানতে চাইলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। পরিসংখ্যান পেশ করে সরাসরি বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ও প্রধানমন্ত্রীর নাম করে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের।

    ২১ হোক বা ২৪ বালুরঘাটে বিজেপির বিজয়রথ রুখতে পারেনি তৃণমূল। ২৬-এ সেই ফল বদলাতে উত্তর নিয়ে বাড়তি মনোযোগী তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবার বালুরঘাটে নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘ডবল ইঞ্জিন সরকারের সবথেকে বড় ভুক্তভোগী বালুরঘাট। এর থেকে বেশি কেউ ডবল ইঞ্জিনের স্বাদ পায়নি। পাঁচ বছরেরও বেশি এখানকার সাংসদ বিজেপির। বিধায়কও বিজেপির। তবু ১০ পয়সার বাড়তি কোনও অনুদান আনেননি। পথশ্রীতে কত রাস্তা বানানো হয়েছে দেখুন, আর ওদের বলুন রিপোর্ট কার্ড আনতে। সাত বছর থেকেও কোনও কাজ করেননি বিজেপি সাংসদ।’

    এখানেই শেষ নয়, সরাসরি কেন্দ্র সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূল সাংসদ বলেন,‘আমাদের সরকার বালুরঘাটে কী করেছে আর সুকান্তবাবুর মোদী সরকার কী করেছে, এসে দেখাক। যুবসাথীতে তপনের মানুষ যেমন সুযোগ পেয়েছে, তেমনি বালুরঘাটের মানুষও সুযোগ পেয়েছে।’

    এমনকী বিজেপির হয়ে প্রচারে এসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, তার জবাবে অভিষেক বলেন, ‘সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নাকি বাড়াবে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, যে সব রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার আছে, সেখানে কোনও এক জায়গায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করে দেখাক। যেখানে একই পরিবারের সব মহিলারাই এই টাকা পাবেন। ক্যামেরার সামনে বলে যাচ্ছি, তা করে দেখাতে পারলে তৃণমূলের হয়ে ভোট চাইতে আসব না। আমরা তো করে দেখিয়েছি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সবাই পান। মুখ্যমন্ত্রী বাজেটে যুবসাথী ঘোষণা করেছিলেন। শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যেই সেই টাকা আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে।’

    বালুরঘাটে বিজেপির জয়ের পরম্পরা শুরুর আগের কথা মনে করিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন বালুরঘাটের উন্নয়ন ধীর হয়ে গিয়েছে। বর্তমান সাংসদ নিজের লোকসভা কেন্দ্রের মানুষের জন্যে কিছুই করেন না বলে দাবি করেন তিনি। অভিষেকের কথায়, বিজেপি আসলে বাংলার কোনও উন্নতি চায় না। তিনি বলেন, ‘জনবিরোধী সরকার বিজেপি। SIR-এর নামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বাংলার মানুষ যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে সেই চেষ্টা করছে। বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে বাাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার ঢোকাচ্ছে। কাল কমিশনে গিয়ে অভিযোগ জানাই। আজও জানতে পারলাম বিহার থেকে মেদিনীপুরে লোক ঢোকাচ্ছে। ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ করে দিচ্ছে বিজেপি।’

    এখানেই শেষ নয়, অভিষেকের দাবি, ‘উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে ভোটার এনে বাংলায় পরিবর্তন করতে চাইছে। কৃষ্টি-সংস্কৃতি বদলে দিতে চাইছে। বাংলার টাকা আটকে রেখেছে। মোদীজি বাংলায় ইতিবাচক পরিবর্তন চায় না। যদি তাই চাইত তা হলে বাংলার সব টাকা ছেড়ে দিক, আমি কথা দিচ্ছি তৃণমূল ২৯১ আসনেই প্রার্থী প্রত্যাহার করবে। যদি সুকান্ত মজুমদার প্রমাণ করতে পারেন, যে গত পাঁচ বছরে আবাসে পাঁচ পয়সাও দিয়েছে, আমি রাজনীতির আঙিনায় পা রাখব না।’

    বালুরঘাটবাসীর কাছে অর্পিতা ঘোষকে জেতানোর আর্জি জানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী বালুরঘাটে জোড়াফুল ফুটলে জেলাবাসীদের দাবি মেনে হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করা হবে। এই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য,‘এখানে যদি বিজেপি আবার জেতে, তা হলে একটা ১০ পয়সার আলো লাগাতে গেলেও বিজেপি প্রতিনিধিকে দিল্লি থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। এ বার বালুরঘাটের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হতে তাঁরা কী চান।’

  • Link to this news (এই সময়)