জলপাইগুড়িতে বৃদ্ধাকে মাথা কেটে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তাার ঘরজামাই। ধৃতের নাম আলামিন হক। পুলিশ সূত্রে দাবি, ধৃত মেজ জামাই আলামিন খুনের কথা স্বীকার করলেও, কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। জমিজমা নিয়ে বিবাদের জেরে খুন, নাকি নেপথ্যে 'কালা জাদু', তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারীরা।
গত শনিবার জলপাইগুড়ির বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চয়চণ্ডী কামাত গ্রামের বাসিন্দা সামিদা খাতুনের (৭৩) মুণ্ডহীন দেহ বাড়ির পিছন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তার পর গত চার দিন ধরে পুলিশ কুকুর, ড্রোন এবং স্থানীয় পুকুরে ডুবুরি নামিয়েও বৃদ্ধার কাটামুণ্ড উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ দিকে, বৃদ্ধার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন আলামিন। কিন্তু কোনও ভাবেই তাঁর হদিস মিলছিল না। শেষমেশ সোমবার শিলিগুড়ির ভারতনগর থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, পুলিশি জেরাতেই খুনের কথা স্বীকার করেছেন ধৃত।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধাকে খুনের ঘটনার তদন্তে দু'টি বিষয় উঠে এসেছে। একটি হলো সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ। আর দ্বিতীয়টি হল 'কালা যাদু' বা 'তন্ত্রবিদ্যা'। পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃতার স্বামী তন্ত্রবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকার এখনও যাঁরা ওই বিদ্যার চর্চা করেন, তাঁদের সঙ্গে আলামিনের ভালো সম্পর্ক ছিল। তা থেকেই তদন্তরীদের একাংশের অনুমান, খুনের নেপথ্যে 'কালা জাদু'-র কোনও বিষয় থাকতে পারে। মঙ্গলবার ধৃতকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে হাজির করানো হয়। সহকারি সরকারি আইনজীবী মৃন্ময় বন্দোপাধ্যায় জানান,পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ধৃতকে ৬ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রফিকুল এবং হামিদুল নামে দুই তান্ত্রিকের হদিস মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশও। তাঁদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৌভনিক মুখোপাধ্যায় জানান, মৃতার তিন ছেলে,চার মেয়ে। গত কয়েক বছর ধরেই সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোনেদের মধ্যে বিবাদ চলছিল। সম্প্রতি বৃদ্ধা বাপের বাড়ির সূত্রে এক বিঘা জমিও পান। তা নিয়ে বিবাদ আরও তীব্র হয়। বৃদ্ধা চেয়েছিলেন, ওই জমি মেজ ও ছোট নাতিকে ভাগ করে দেবেন। তা নিয়ে পারিবারিক বিবাদ আরও বেড়ে যায়। এই কারণেই খুন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশকর্তা। পাশাপাশি তিনি বলেন, 'যে হেতু এখনও কাটামুণ্ডটি পাওয়া যায়নি, তাই আমাদের সন্দেহ আরও দৃঢ়় হয়েছে। সেটি তন্ত্রসাধনার কাজে লাগানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'