সুকুমার ভুঁইঞা (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে খুনের (Murder) ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককেও পিটিয়ে মারার (Mob Lynching) অভিযোগ উঠল উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে কোচবিহার (Cooch Behar) ২ নম্বর ব্লকের আমবাড়ি পঞ্চায়েতের বড়াইবাড়ি গ্রামের এই জোড়া খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে অভিযুক্তের নাম-পরিচয় জানা যায়নি এখনও। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ (Cooch Behar Police)। ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে বিশাল বাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে বড়াইবাড়ি গ্রামে বাসা বাঁধে বানজারাদের একটি দল। এলাকায় ঘুরে ঘুরে হরেক রকমের জিনিসপত্র বিক্রি করাই তাঁদের পেশা। এ দিন বানজারাদের এক যুবকের সঙ্গে বচসা বাঁধে বড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সুকুমারের। কথা কাটাকাটি গড়ায় হাতাহাতিতে। সেই সময়ে আচমকাই একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে সুকুমারের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিযুক্ত। এলোপাথাড়ি কোপে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুকুমারের।
এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে যায় এলাকায়। দল বেঁধে রাস্তায় নামেন স্থানীয় কয়েক জন যুবক। অভিযোগ, প্রথমেই বানজারাদের একটি ঝুপড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁরা। তার পরে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে বেধড়ক মারতে শুরু করেন। এলাপাথাড়ি মারের চোটে অভিযুক্ত যুবকেরও ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, দু’টি দেহ রাস্তার উপরেই পড়েছিল। ফলে কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার রাজ্য সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দেহ দু’টি উদ্ধার করে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যালে পাঠায় পুলিশ। সেখানেই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হবে বলে জানা গিয়েছে।
জোড়া খুনের ঘটনার পর থেকেই থমথমে পুরো এলাকা। বড়াইবাড়ি গ্রামে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গণপিটুনির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ধৃতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হয়নি। খুনের ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার জসপ্রীত সিং বলেন, ‘পুন্ডিবাড়ি থানা এলাকায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’