সৌমেন রায় চৌধুরী
ভোটের ময়দানে এ বার ননদ-বৌদির লড়াই। সৌজন্যে বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র। বাগদায় তৃণমূলের প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর। যিনি মমতাবালা ঠাকুরের মেয়ে। অন্য দিকে, বিজেপির প্রার্থী সোমা ঠাকুর, যিনি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী। মঙ্গলবার প্রার্থী হিসেবে সোমার নাম ঘোষণা হতেই ঠাকুরনগরের মতুয়াবাড়ির দুই সদস্য নেমে পড়েছেন ভোটযুদ্ধে।
বাগদা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে গত কয়েক দিন ধরেই সম্ভাব্য প্রার্থীর একাধিক নাম ঘোরাফেরা করছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সোমা ঠাকুরের নাম ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে বিজেপির কৌশল। মতুয়া অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে ঠাকুর পরিবারের প্রভাবকে কাজে লাগাতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ ব্যাপারে সোমা ঠাকুর বলেন, ‘তৃণমূল কী ভাবে উপনির্বাচন জিতেছে, তা সকলেই জানে। তাই শুধু বাগদা কেন, গোটা পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূলকে এ বার বিদায় দিয়ে পদ্মফুল ফোটানো হবে।’
কিন্তু SIR-এ বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। তা নিয়ে বিজেপির কি বিড়ম্বনা বাড়বে না? সোমার দাবি, শুধু মতুয়া নয়, যাদের সমস্যা ছিল, অনেকেরই নাম বাদ গিয়েছে। তবে সকলেরই নাম উঠে যাবে কিছুদিনের অপেক্ষা।
ভোটের ময়দানে সোমার উল্টোদিকে লড়ছেন তাঁর ননদ। সোমার বক্তব্য, পরিবার আর রাজনীতি জড়ালে চলবে না। আর গত ভোটে যে শান্তনু মধুপর্ণাকে আশীর্বাদ করেছিলেন, এ বার কি বৌদিরও আশীর্বাদ পাবেন? তা কিন্তু স্পষ্ট করেননি সোমা।
আর বিজেপি প্রার্থীর নাম শুনে মধুপর্ণার কী প্রতিক্রিয়া? মধুপর্ণা বলেন, ‘বৌদি ভোটে দাঁড়িয়েছেন ঠিকই। তবে রাজনীতির জায়গাটা আলাদা। পারিবারিক যে সম্পর্ক আছে আমাদের, সেটাও আলাদা। নির্বাচনের ময়দানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তো হবেই। এতদিন ফাঁকা ময়দান ছিল। হঠাৎ করে তাঁকে প্রার্থী করা হলো। বাগদায় যে কেউ প্রার্থী হোন না কেন, সবুজ আবিরই খেলা হবে।’