গোপাল সোনকার
প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই জেলায় জেলায় ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস কর্মীদের একাংশের মধ্যে। পূর্ব বর্ধমানে কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর-সহ কার্যালয়ে তালা মেরে দেওয়ার ছবিও দেখা গিয়েছে। প্রশ্ন এখানেই। একদিকে শাসকদলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা, অন্যদিকে রয়েছে বিজেপিও। তার উপরে আবার বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মীরা। কংগ্রেসের লড়াই কি কঠিন হবে না এই দুই কেন্দ্রে?
মন্তেশ্বর, বর্ধমানের মতো বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী নিয়ে অভিযোগ দলের অন্দরেই। বিজেপি কিংবা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ লোকজনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সোমবারই কংগ্রেস কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় কংগ্রেস কর্মীদের একাংশ।
মন্তেশ্বরে জ্যোতির্ময় মণ্ডলকে, বর্ধমান দক্ষিণে গৌরব সমাদ্দারকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। এই দুই কেন্দ্রে শাসকদল তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী (মন্তেশ্বর বিধানসভা) ও খোকন দাস (বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা)। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন সৈকত পাঁজা (মন্তেশ্বর বিধানসভা) ও মৌমিতা বিশ্বাস মিত্র (বর্ধমান দক্ষিণ)।
বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন, জ্যোতির্ময় মণ্ডল তৃণমূল সমর্থক, বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার প্রার্থী গৌরব সমাদ্দারের বিজেপির সঙ্গে আঁতাত রয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে কোমর বেঁধে প্রচারে নেমেছেন এই দুই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী।
বর্ধমান দক্ষিণের কংগ্রেস প্রার্থী গৌরব সমাদ্দার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে বলেছেন, ‘কংগ্রেস কর্মীদের কাছে কংগ্রেস মানে একটা আবেগ। অনেকেরই চাওয়া পাওয়া থাকে। তা না মিটলে আঘাত লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু এটা নতুন কিছু নয়। আবার ঠিক সময়ে এই কংগ্রেস কর্মীরাই বুক চিতিয়ে কংগ্রেসের পতাকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে লড়াই করতে নামবেন। আমার বিরুদ্ধে যা বলা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা।’
অন্যদিকে মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী জ্যোতির্ময় মণ্ডল জানিয়েছেন, তিনি কংগ্রেসের পুরোনো কর্মী। প্রথম থেকেই কংগ্রেস করেন। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। আর কংগ্রেসের এই ভিতরের কোন্দল কানে তুলছেন না বিজেপি, তৃণমূলের প্রার্থীরা। তাঁরা জোরদার প্রচার করে আসন জিততে মরিয়া এখন।