• বাগদায় কি কোনও স্থানীয় ছিল না? ক্ষোভের মুখে সোমা
    আজকাল | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ টালবাহানার পর মঙ্গলবার সকালে বাগদার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি হেলেঞ্চা বাজারে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে প্রণাম করে প্রচার শুরু করেন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ। প্রচারের শুরুতেই ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। হেলেঞ্চা বাজারের স্থানীয় একটি দোকানে গেলে দোকানদার তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উপড়ে দেন। দোকানদারের বক্তব্য, বাগদায় কি কোনও মানুষ ছিল না? কেন বারবার বাইরে থেকে প্রার্থী দেওয়া হবে? পরে হাতজোড় করে ফিরে আসেন প্রার্থী। ওই দোকানদার নিজেকে বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন।

    এবছর প্রথম থেকেই বাগদার বিজেপি কর্মী সমর্থকদের দাবি ছিল স্থানীয় কোনও ভূমিপুত্র কিংবা ভূমিকন্যাকে প্রার্থী করতে হবে। এ বিষয়ে তাঁরা নেতৃত্বের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দাবিও জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাবি মান্যতা না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করছেন। সেখানে লেখা হয়েছে বিজেপি কর্মীদের উচিত প্রচারে না বেরনো। কোনও নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানো উচিত মতুয়াদের মধ্য থেকেই। প্রসঙ্গত, বাগদা বিধানসভা এলাকাটি মতুয়া অধ্যুষিত।

    বিজেপি প্রার্থী হিসেবে সোমা ঠাকুরের নাম ঘোষণা হওয়ায় বাগদায় এবার লড়াই গড়িয়েছে পরিবারের মধ্যেই। কারণ, বাগদার তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যেই মধুপর্ণা ঠাকুরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনিও মতুয়া ঠাকুরবাড়ির সদস্য। সম্পর্কে শান্তনু ঠাকুরের বোন। সোমা ঠাকুরের ননদ। ফলে এবারের লড়াই বাগদায় বৌদি ও ননদের মধ্যে। কিন্তু বিজেপি কর্মীদের মধ্যে যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে তাতে দ্রুত প্রলেপ দিতে না পারলে শুরুতেই সোমা ঠাকুর পিছিয়ে পড়বেন বলে মনে করছেন বাগদার সাধারণ মানুষ। প্রার্থী হয়ে সোমা বলেন, “মতুয়া মহাসংঘ এবং আমার মাতৃ সেনা-র পক্ষ থেকে বাগদায় বহুবার গিয়েছি। বাগদার মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। পারিবারিক সম্পর্ক আলাদা এবং রাজনৈতিক লড়াই আলাদা। তৃণমূল প্রার্থী যেই হোন, তাঁর সঙ্গে আমার রাজনৈতিক লড়াই থাকবে।”

    বিজেপি প্রার্থীর বাড়ি গাইঘাটায় ফলে তিনি বহিরাগত। এটাই বাগদার বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের দাবি। এই প্রসঙ্গে সোমাদেবী বলেন, “আমি মোটেই বহিরাগত নই, এই মহকুমাতেই আমার বাড়ি। আমি নিশ্চিত বাগদার মানুষ আমাকে আপন করে নেবেন।”

    এই বিষয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থী তৃণমূলের মধুপর্না ঠাকুর বলেন, “পারিবারিক সম্পর্ক থাকবে সম্পর্কের জায়গায়। রাজনৈতিক ময়দানে লড়াই হবে বিজেপির বিরুদ্ধে। সেই লড়াই ইতিমধ্যেই আমি শুরু করে দিয়েছি।”

    প্রার্থী নিয়ে বিক্ষুব্ধদের ক্ষোভের প্রসঙ্গে বিজেপির বনগাঁ জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, “দল যাকে প্রার্থী করবে সেই আমাদের প্রার্থী। এখানে বহিরাগত বলে কিছু নেই।”

    এখন দেখার বৌদি এবং ননদের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাগদায় শেষ হাসি কে হাসেন।
  • Link to this news (আজকাল)