• 'নথি দিয়েও নাম ওঠেনি', বনগাঁ দক্ষিণে আতঙ্কে দিন কাটছে ১৮৩ মতুয়ার
    আজ তক | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • Bongaon voter list controversy: কারও বয়স ৬০। কারও ৭০। জীবনে অনেক ঝড়-ঝাপটা সয়েছেন। কিন্তু নাগরিকত্ব হারানো নিয়ে ভয় পেতে হয়নি কখনও। এমনটাই বলছেন চাঁদপাড়ার প্রায় ১৮৬ জন বাসিন্দা। মূলত মতুয়া সমাজের মানুষ। দাবি, সব নথি জমা দিয়েছেন। তারপরও সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম আসেনি। আর সেই কারণেই এখন শয়নে-স্বপনে সেই দুশ্চিন্তাই গ্রাস করেছে তাঁদের।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁরা সকলেই যা-যা নথি চাওয়া হয়েছিল, তা জমা দিয়েছিলেন। কারও কাছে রয়েছে ১৯৮৪ সালের বর্ডার স্লিপ। কারও কাছে আবার ১৯৮৮ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার নথি। এত কিছু দেখানোর পরও তাঁদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। অনেকেই বলছেন, 'আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে আছি। হঠাৎ করে কীভাবে আমাদের ভোটাধিকার চলে যাচ্ছে?'

    বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই মতুয়া সম্প্রদায়ের। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক রঙ লাগতেও শুরু করেছে। 

    এদিন চাঁদপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, বহু পরিবারই বেশ আতঙ্কে ভুগছেন। ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও উদ্বেগে প্রৌঢ়রা। একাংশের বক্তব্য, 'ভোট নেই মানেই নাগরিকত্বের প্রশ্ন উঠবে। তাহলে আমরা কোথায় যাব?'

    অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুনরায় আবেদন বা আপত্তি জানাতে পারবেন। 

    রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে ভোটবাক্সে এর প্রভাব পড়তে পারে।

    এখন প্রশ্ন একটাই; যাঁদের নাম বাদ গেল, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? প্রশাসন কি পুনর্বিবেচনা করবে? নাকি এই তালিকাই চূড়ান্ত ধরা হবে? উত্তর খুঁজছে বনগাঁ, উত্তর খুঁজছেন হাজারো ভোটার।

    মতুয়া সমাজ
    পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায় একটি হিন্দু জনগোষ্ঠী। তাঁদের মূল উৎপত্তি বর্তমান বাংলাদেশের(Bangladesh) গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর অঞ্চলে। ঊনবিংশ শতকে হরিচাঁদ ঠাকুর(Harichand Thakur) এবং তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর(Guruchand Thakur) মতুয়া আন্দোলনের সূচনা করেন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক সাম্য, বর্ণভেদ বিরোধিতা এবং শিক্ষার বিস্তার।

    দেশভাগের পর বিপুল সংখ্যক মতুয়া পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন। বিশেষত উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাঁদের বসতি গড়ে ওঠে। বর্তমানে তাঁরা রাজ্যের একটি বড় ভোটব্যাঙ্ক হিসেবেও বিবেচিত।   রিপোর্টারঃ দীপক দেবনাথ
  • Link to this news (আজ তক)