• চৌরঙ্গী বিধানসভায় কাউন্সিলরের পরিবারের সদস্য-সহ ১৩৫ জনের নাম বাদ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • মঙ্গলবার নিজের ওয়ার্ডে নাম বাদ পড়া ভোটারদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে রেহানা খাতুন জানান, প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘পাসপোর্ট-সহ সব নথি জমা দিয়েছি। দু’বার শুনানিতেও ডাকা হয়েছিল। তবু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখি চার জনের নাম নেই।‘ এই ঘটনায় তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। এদিন তাঁর ওয়ার্ডে নাম বাদ পড়া ভোটারদের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা লড়াই করব। লড়াই ছাড়ব না। যদি ১০টা ভোটও থাকে, আমরা তৃণমূলকে দেব।‘

    রেহানা খাতুন অবশ্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হবেন এবং বাদ পড়া ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা লড়াই ছাড়ব না।‘ এছাড়া ওই এলাকার একটি বাড়ির ১৩৫ জন বাসিন্দার নাম বাতিল করা হয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসাররা তাঁদের নাম ডিলিট করে দিয়েছেন বলে কমিশন সূত্রে খবর।

    পরিসংখ্যান বলছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে এই ওয়ার্ডে প্রায় ২৫ হাজার ভোটার ছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ৯ হাজার নাম বাদ পড়ে। পরে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরোনোর পর দেখা যায়, মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে— বর্তমানে তা সাড়ে ১২ হাজারের কাছাকাছি। প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এই একটি কেন্দ্র থেকেই।

    এই ওয়ার্ডটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এখান থেকে তৃণমূল প্রায় ৭,৮৭৫ ভোটের লিড পেয়েছিল। ফলে ভোটার সংখ্যা এতটা কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই শাসক দলের উদ্বেগ বেড়েছে।

    ১৯৬৭ ও ১৯৬৯ সালে কংগ্রেসের সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় এই কেন্দ্র থেকেই জয়লাভ করেছিলেন। ১৯৬২ সালে কংগ্রেসের বিধানচন্দ্র রায়ও এই কেন্দ্র থেকেই জয়লাভ করেন। ২০১৬ এবং ২০২১ সালে এই বিধানসভা থেকে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের নির্বাচনেও তাঁকে ওই কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই রকম একটি হেভি ওয়েট এলাকা থেকে একসঙ্গে এত ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)