তিন বারের বিধায়ক। রাজ্যের মন্ত্রীও ছিলেন। তবে, ২০২৩ সালে রেশন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় জেলে যেতে হয় তাঁকে। প্রায় ১৪ মাস জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। এ বারও সেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে হাবরা আসনে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। তার পরে থেকেই আগের মেজাজেই দেখা যাচ্ছে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে।
তাঁর দাবি, বনগাঁ আসনে বিজেপি (BJP)কে সুবিধা পাইয়ে দিতেই লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে জেলে ঢোকানো হয়েছিল। আর সেই নির্বাচন মিটে যেতেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গেই বিজেপিকে সরসারি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি। হাবরার পাশাপাশি বাংলাদেশের সীমান্তে থাকা বনগাঁ (Bangaon) এলাকার চারটি আসনেও জেতার দাবি করেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick)।
২০১১ সালের নির্বাচনে জেতার পরে বানিপুর-সহ পুরো হাবরা এলাকাকে সমাজবিরোধী মুক্ত করার দাবি করেছেন জ্যোতিপ্রিয়। এখনও হাবরায় কোনও দুষ্কর্মমূলক কাজ হয় না বলেও দাবি তাঁর। জ্যোতিপ্রিয়র দাবি, তিনি যখন এই আসনে প্রথম লড়াই করতে এসেছিলেন সেই সময়ে তাঁকে বানিপুরে ঢুকতে নিষেধ করেছিলেন এলাকার লোকজনই। আর, মঙ্গলবার ওই বানিপুর এলাকায় দাঁড়িয়েই শান্তি ফিরিয়ে আনার সঙ্গেই উন্নয়নের কথাও বলেন তিনি।
এরই সঙ্গে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। তিনি বলেন, ‘বিজেপি যেন আমাদের চোখ রাঙিয়ে কথা না বলে। আমরা আপনাদের চোখ রাঙানিতে ভয় পাই না। আমরা বিজেপিকে বলতে চাই,মানুষকে ভালোভাবে থাকতে দিন। সন্ত্রাস করবেন না এই শান্ত হাবরাতে (Habra)। ভোটার লিস্ট থেকে মানুষের নাম কেটে দেওয়াও এক রকমের সন্ত্রাস। ’
সেই সঙ্গেই এ বারের নির্বাচনকে ‘বাঁচার লড়াই’ হিসেবেও উল্লেখ করেন হাবরা আসনের তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর মতে, এ বারের নির্বাচন ‘আমরা বেঁচে থাকব কী থাকব না, বাঙালিদের অস্তিত্ব থাকবে কী থাকবে না তার লড়াই’।
জ্যোতিপ্রিয়র দাবি, তাঁদের এই ভাবে ধমকিয়ে-চমকিয়ে বিজেপির কোনও লাভ হবে না। উত্তর ২৪ পরগনা(North 24 Parganas) জেলার ৩৩টি আসই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে SIR নিয়ে কাউকে অযথা ভয় না পাওয়ার জন্যও তিনি এলাকার মানুষকে পরামর্শ দিচ্ছেন। কারোর নাম কাটতে দেওয়া হবে না বলেও বানিপুরের কর্মীসভায় জানিয়েছেন হাবরার তৃণমূল প্রার্থী।