• ‘কিছু ফর্ম-৬ জমা পড়েছে’, স্বীকার মনোজের, ‘কোন আইনে নিলেন?’ ভিডিয়ো পোস্ট করে তোপ তৃণমূলের
    এই সময় | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে বিপুল সংখ্যায় ফর্ম–৬ জমা করে ভিন রাজ্যের ভোটারদের নাম তোলার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। যদিও নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) তৎক্ষণাৎ সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘কিছু ফর্ম-৬ জমা পড়েছে’ বলে স্বীকার করে নিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal)। মঙ্গলবার তাঁর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে তৃণমূল সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছে, ‘শেষ পর্যন্ত আসল ঘটনা স্বীকার করতে বাধ্য হল কমিশন।’

    নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম বার ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম-৬ ফিলআপ করে জমা দিতে হয়। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, এই ফর্ম দিয়েই ভিন রাজ্যের বিপুল মানুষের নাম বাংলার ভোটার লিস্টে তোলা হচ্ছে। SIR আবহে এই নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলা। নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও এ দিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘বিষয়টা আমার নলেজে (জানতাম) ছিল না। পরে আমি খবর নিলাম যে আছে। কিছু ফর্ম-৬ এখানে এসেছে।’

    এই ভিডিয়ো পোস্ট করেই নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেছে তৃণমূল। X হ্যান্ডলে তারা লিখেছে, ‘প্রথমে পুরো ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বলেছিলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এখন তাঁর দপ্তরে যে বিপুল সংখ্যায় ফর্ম-৬ জমা পড়েছিল, তা নিজেই স্বীকার করলেন মনোজ আগরওয়াল।’ এর পরেই তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, ‘এই আবেদন গ্রহণের ক্ষমতা তাঁকে কে দিয়েছে? কোন আইনে আপনি বিপুল সংখ্যায় ফর্ম-৬ গ্রহণ করলেন?’

    বিচারাধীন ভোটারদের অনেকেই ফর্ম-৬ জমা দিয়েছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলের। সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ টেনে তারা লিখেছে, ‘একজন ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি ফর্ম-৬ জমা দিতে পারেন। সেখানে এই বিপুল সংখ্যক ফর্ম এল কী ভাবে? তা ছাড়া বিচারাধীন ভোটারদের আবেদন শুধু মাত্র ট্রাইবুনালেই শোনা হবে বলেও শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে।’

    তবে ফর্ম-৬ জমা পড়লেই যে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে না, তাও এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তিনি বলেছেন, ‘মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসে নতুন ভোটারদের নাম তোলার কাজ হয় না। মূলত ইআরও-দের উপরেই এর দায়িত্ব থাকে।’ উল্লেখ্য রাজ্যে দুই দফায় ভোট হবে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফার জন্য ২৭ মার্চ পর্যন্ত যত ফর্ম-৬ জমা পড়েছে, তা গ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৩০ মার্চ। এর পরে কোনও ফর্ম জমা পড়লে, আর তা বিবেচনা করবে না কমিশন।

  • Link to this news (এই সময়)