• চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন স্বাস্থ্য দপ্তরের
    এই সময় | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • চিকিৎসার গাফিলতিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। আত্মীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসকের বদলে রোগী দেখেছেন নার্স। এর ফলেই মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা হাওড়ার (Howrah) সাঁকরাইলের হাজি এসটি মল্লিক গ্রামীণ হাসপাতালে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।

    ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার ভোরে। পেটে অসহ্য ব্যথা নিয়ে গোপাল পোদ্দার (২৫) নামে এক যুবককে ওই হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকেরা। গোপালের ভাই মন্টু পোদ্দারের অভিযোগ, ওই সময়ে হাসপাতালে (Hospital) কোনও চিকিৎসক ছিলেন না। চিকিৎসকের বদলে নার্স রোগীকে দেখে ইঞ্জেকশন দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ওই যুবক ছটফট করতে করতে মারা যান। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসক না দেখার কারণেই গোপালের মৃত্যু হয়েছে।

    এর পরেই হাসপাতালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয়রা। মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই বিক্ষোভে সামিল হন। চিকিৎসার গাফিলতির কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বলাই ধাড়া নামে এক বাসিন্দাও। সাঁইরাইল গ্রামীণ হাসপাতালে (Sankrail Rural Hospital) ঠিক মতো পরিষেবা পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ তাঁদের।

    বিক্ষোভের খবর পেয়ে হাসপাতালে আসে সাঁকরাইল (Sankrail) থানার পুলিশ। গোপালের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় হাওড়া পুলিশ মর্গে।

    এদিকে, গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক চিকিৎসক জানিয়েছেন নিয়ম মেনেই ওই যুবকের চিকিৎসা হয়েছিল। তাঁকে অ্যান্টাসিডও দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, ওই সময়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক শৌচাগারে গিয়েছিলেন। তাই রোগী দেখতে মিনিট কুড়ি দেরি হয়। কী কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    এই ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওষুধের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) কিশলয় দত্ত জানিয়েছেন,ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগ ওঠার পরে ডেপুটি সিএমওএইচ-র নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করাও হয়েছে। ওই কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)