• বাংলাদেশি তকমায় ডিটেনশন ক্যাম্পে বছর পার, শেষে মুক্তি
    এই সময় | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, রানিতলা: রুজিরুটির টানে গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুতে। সেখানে বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের রানিতলার পরিযায়ী শ্রমিক আওয়াল শেখকে আটক করেছিল চেন্নাইয়ের ভুবনগিরি থানার পুলিশ। পরে সেখানাকার আদালতে হাজির করিয়ে ফরেনার্স অ্যাক্টে তাঁকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে প্রায় এক বছর ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    পরে বিষয়টি জানতে পারেন পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চ–এর সদস্যরা। তাঁরা মাদ্রাজ হাইকোর্টে আবেদন করেন। ওই শ্রমিকের ভারতীয় নাগরিক হওয়ার সমর্থনে যাবতীয় প্রমাণ আদালতে পেশ করা হলে অবশেষে সোমবার মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাঁকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, রানিতলা থানার আমাডহরা পঞ্চায়েতের তপিডাঙা গ্রামের আওয়াল ২০২৫-র মার্চে চেন্নাই যান রাজমিস্ত্রির কাজে। তিনি তামিলনাড়ুর সালেম জেলার আত্তুর পুরসভা এলাকায় থাকতেন। তাঁর সঙ্গে সেখানে থাকতেন আরও কয়েক জন।

    মুক্তি পাওয়ার পরে আওয়ালের অভিযোগ, ‘বাংলায় কথা বলার কারণে আমাদের সাত জনকে ওখানকার গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। পরে ভুবনগিরি পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ভারতীয় নাগরিক হওয়ার সব নথি দেখানো সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের সাত জনকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে আদালতে হাজির করিয়েছিল। আদালত ফরেনার্স অ্যাক্টে বাংলাদেশি বলে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়।’

    ডিটেনশন ক্যাম্পে বিনা বিচারে প্রায় এক বছরের উপরে আটকে ছিলেন আওয়াল। এর মাঝে ওই শ্রমিকের মা-বাবা ছেলেকে ছাড়াতে পুলিশ-প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে হন্যে হয়ে ঘুরেছেন। কোনও সুরাহা মেলেনি। এ বছর জানুয়ারিতে বিষয়টি জানতে পারে পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চ। তারা আওয়ালের ভারতীয় হওয়ার সব প্রমাণপত্র জোগাড় করে মাদ্রাজ হাইকোর্টে আবেদন করে। দীর্ঘ শুনানির পরে সোমবার সব নথি খতিয়ে দেখে বিচারপতি সন্তোষপ্রকাশ করে আওয়ালকে জামিনে মুক্তি দেন।

    রানিতলা থানার এক আধিকারিক বলেন, ‘ওই শ্রমিকের বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই আমরা চেন্নাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। যুবক যে ভারতীয়, তার যাবতীয় নথিপত্র চেন্নাই পুলিশকে পাঠানোও হয়েছিল। নবান্নে এই সংক্রান্ত যে সেল তৈরি হয়েছে, সেখানেও রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। পরে পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চ ওই পরিবারকে আইনি সাহায্য করেছে।’ রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চ–এর সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, ‘মাদ্রাজ হাইকোর্টে মামলা চালাতে আওয়ালের স্ত্রী সাবিনা খাতুন সোনার গয়না বন্ধক রাখেন। ধারদেনা করে চেন্নাইয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের। শেষ পর্যন্ত আওয়াল জামিনে মুক্তি পাওয়ায় আমরা খুশি।’

    আওয়ালের বাবা মোজাম্মেল হক চেন্নাই পৌঁছেছেন ছেলেকে বাড়ি ফেরাতে। মোজাম্মেল ফোনে বলেন, ‘গত বছর ইদের পরে ছেলেকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়। এক বছর পরে ছেলে ছাড়া পাওয়ায় আনন্দ হচ্ছে। খাওয়া না জুটলেও আর কোনও দিন ছেলেকে অন্য রাজে কাজে পাঠাব না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যে ভাতা চালু করেছেন। ওই ভাতা আর দিনমজুরি করে ঠিক সংসার চলে যাবে।’

  • Link to this news (এই সময়)