• ভাতজাংলায় বিচারাধীন ৩৩০০ জনের মধ্যে বাদ দু’হাজারের বেশি
    বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার ভাতজাংলা পঞ্চায়েতে বিবেচনাধীন ২০০০ নাম বাতিল হওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার সময়েই সাড়ে সাতশোর বেশি নাম বাদ পড়েছিল। তারপর ৩ হাজার ৩০০ জনের নাম ছিল বিবেচনাধীনের তালিকায়। দু’ দফায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, তার থেকে প্রায় ২ হাজার নাম বাদ পড়েছে। যার জেরে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    স্থানীয় কিছু বাসিন্দা বলেন, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের অধিকাংশই ৩০-৪০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছে। অনেকেই উচ্চশিক্ষিত। বেশির ভাগের কাছেই মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, আধার কার্ড, পাসপোর্ট সবই রয়েছে। তার পরেও তাদের নাম বাদ গিয়েছে। ভোটের ঠিক আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা। এখন যদি নাম না ওঠে, ভবিষ্যতে আবার যখন এসআইআর হবে তখন ফের নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার নিয়ে সমস্যা  হবে। এই আশঙ্কায় অনেকেই ইতিমধ্যেই সিএএ-তে আবেদন করে ফেলেছেন। তবে কিছু সাধারণ ভোটার এই এসআইআর প্রক্রিয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ায় এবার ভোট স্বচ্ছ হবে। যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হবে।

    ভোটার লিস্টে বাদ যাওয়া ভোলা দাস প্রামানিক, শিবনাথ প্রামানিক, লক্ষ্মী হালদার সহ অনেকেই বলছেন, আমাদের পরিবার দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বাস করছে এখানে, বছরের পর বছর  ভোট দিচ্ছি। আগের লোকসভা, পঞ্চায়েত, বিধানসভা ভোটগুলোতে, আমাদের ভোটে জিতেই তো এরা আজ নেতামন্ত্রী হয়েছে। আর আজ আমাদেরই নাম কেটে দিচ্ছে। আজ আমরা যদি অবৈধ হয়ে যাই, তাহলে ওঁরা কীভাবে বৈধ হচ্ছেন? আজ নাম বাদ যাচ্ছে, কাল হয়তো আরও বড় সমস্যায় পড়তে হবে। তাই আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। 

    তৃণমূলের সদস্য সুব্রত দাস বলেন, আমার বুথে ৮০ শতাংশ নমঃশূদ্র মানুষের বাস। এসআইআরের মূল লক্ষ্য পরিকল্পনা করে নাম বাদ দেওয়া। অনেক বৈধ ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে। বেঁচে থাকা মানুষগুলোকেও মেরে ফেলেছে। নাম কেটে, মানুষকে ভুল বুঝিয়ে, সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলে ভোটে জেতার চেষ্টা করছে। কিন্তু মানুষ সব বুঝতে পারছে। এসব বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেবে না।

    কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির লক্ষ্যেই কাজ করেছে। কারও নাম যদি বাদ যায়, তার জন্য রাজ্য সরকার দায়ী। তাঁরাই আধিকারিকদের দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দিয়েছে।‌ দলের তরফ থেকে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

    সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সুমিত বিশ্বাস বলেন, এসআইআরে নমশূদ্র, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।  প্রথমে তৃণমূল বলেছিল, আমরা এসআইআর করতে দেব না। তখন আমরাও বলেছিলাম সর্বদলীয় বৈঠক হোক, আমরা এক্ষেত্রে তৃণমূলের পাশে থাকব। কিন্তু এসআইআর হয়েছে। ২০০৫ সালে লোকসভায় একমাত্র তৃণমূলের সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দাবি করেছিলেন যে, বাংলায় বাংলাদেশি ভুয়ো ভোটারে ভরে গিয়েছে। সেটাই ২০২৫ সালে এসে কার্যকর করল বিজেপি। ফলে নদীয়ার মানুষ বুঝেছে, তাঁদের এই দুর্দশার জন্য তৃণমূল ও বিজেপিই দায়ী। এর প্রভাব অবশ্যই ভোটে পড়বে, মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।
  • Link to this news (বর্তমান)