এই সময়: গত বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের ফোনে আড়ি পাতছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ বারের বিধানসভা ভোটের মুখে বিজেপি নেতৃত্ব জোড়াফুলের বিরুদ্ধে সেই একই অভিযোগ তুলে হাজির হলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরে। তাঁদের সরাসরি নিশানায় রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা এসটিএফ এবং আইবি–র শীর্ষ কর্তারা।
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে তাঁর প্রচার বন্ধের দাবিতে সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, পীযূষ গোয়েল, সুকান্ত মজুমদাররা। মঙ্গলবার একই দাবিতে কলকাতায় সিইও মনোজ আগরওয়ালের দপ্তরে হাজির হন বঙ্গ–বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং শিশির বাজোরিয়া। কমিশনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘এসটিএফ এবং আইবির দুই শীর্ষ আধিকারিক শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে মণ্ডলস্তরের বিজেপি নেতাদের ফোন এবং লোকেশন ট্র্যাক করছেন। আমরা এ বিষয়ে কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছি। আমাদের কাছে তথ্যপ্রমাণও আছে।’
এ নিয়ে রাজ্য পুলিশের কর্তারা কোনও মন্তব্য করেননি। তৃণমূলের অবশ্য পাল্টা দাবি, এই অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর কথায়, ‘পেগ্যাসাস ব্যবহার করে দিনের পর দিন দেশের মানুষের ফোন অনৈতিক ভাবে ট্যাপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন বিজেপি নেতারা কোন মুখে অন্যের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন! আর ফোন ট্যাপের প্রমাণ বিজেপি নেতাদের কাছে থাকলে বুঝতে হবে, ওঁরাও আড়ি পাতছেন। আসলে পরাজয়ের হতাশা থেকেই এ সব মিথ্যে অভিযোগ তুলছে বিজেপি।’ শুধু এই দু’জন পুলিশকর্তা নন, নির্বাচন কমিশন দ্বারা দায়িত্ব থেকে অপসারিত দু’টি জেলার পুলিশ সুপারকে নিয়েও এ দিন সরব হয়েছেন শুভেন্দুরা। তাঁদের অভিযোগ, ওই দুই পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেও তাঁরা এসপি বাংলো দখল করে বসে আছেন। এটাও নির্বাচনী বিধিভঙ্গের সামিল। তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
সোমবার মমতার বিরুদ্ধে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন, ‘রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে ভোটারদের আতঙ্কিত করার চেষ্টা হলে তা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের সামিল, তাই কমিশনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।’ এ দিন সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে ফের এই দাবি জানান শুভেন্দু–শমীকরা। তাঁদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি হিংসায় উস্কানি দিচ্ছেন। তাই কিছুদিনের জন্যও হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শুভেন্দুর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দু’টি ভাষণের ক্লিপ আমরা জমা দিয়েছি কমিশনে। উনি সরাসরি হিংসায় উস্কানি দিয়েছেন। উনি বলেছেন, ৪ মের পরে পোস্টার সেঁটে বিজেপি কর্মীদের বলতে হবে, আমি বিজেপি করি না। এটা সরাসরি খুনের হুমকি। নির্বাচনী বিধিভঙ্গ। অতীতে আমরা দেখেছি, তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে রাহুল সিনহা, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে কয়েক দিনের জন্য প্রচার থেকে ব্যান করেছে কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী কি আইনের ঊর্ধ্বে? কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।’ শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, ‘আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন পশ্চিম পাঁশকুড়ার বিজেপি প্রার্থীকে সিআইডি কী ভাবে ডাকে? এই প্রশ্নগুলি আমরা কমিশনে তুলেছি।’ যদিও তৃণমূলের পাল্টা সওয়াল, ‘ওঁরা অনেক কথাই বলতে পারেন। কিন্তু আগে নিজেদের দিকে তাকান। শুভেন্দুরা কী ধরনের মন্তব্য করছেন, তা কি কমিশন দেখছে? তা হলে ওঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?’