এই সময়: রাজ্যের প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনয়ন পর্ব শুরু হয়েছে। তাই এই কেন্দ্রগুলিতে ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা ‘বিচারাধীন’ থাকা ভোটারদের নথির নিষ্পত্তি হলেও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা আর প্রকাশিত হবে না। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলির জন্য চারটি সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট এবং একটি সাব সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট কার্যকর থাকবে। সেই কারণে ১৫২টি কেন্দ্রে ‘অ্যাজুডিকেশন’ তালিকার মধ্যে যাঁদের নথির নিষ্পত্তির পরে রবিবার দুপুর ৩টে থেকে রাত ১২টার মধ্যে জুডিশিয়াল অফিসাররা বুথ ভিত্তিক ই-সাইন করেছেন, তাঁরাই সাব সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও একই নীতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ, বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত যত নথির নিষ্পত্তি হবে সবগুলি বিচারকরা ই-সাইন করে দিলে সপ্তম সাব সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হবে। মঙ্গলবার কমিশন দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য ষষ্ঠ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে। এ দিন পর্যন্ত অ্যাজুডিকেশন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষের মধ্যে ৪৭ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে গড়ে ৪৫ শতাংশের নাম ‘ডিলিটেড’ হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এর মধ্যেই আজ, বুধবার বাংলার ‘সার’ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ ভোটারদের নাম বাদ, তাঁদের ট্রাইব্যুনালে আবেদন সংক্রান্ত বিষয়গুলি অবধারিত ভাবে উঠবে বলে আইনজীবী মহলের খবর। এখনও পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু না–করায় এই ভোটাররা আদৌ এ বারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ নিয়েও শীর্ষ আদালত কী নির্দেশ দেয়, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
কলকাতা হাইকোর্টের মনোনীত ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নাম ট্রাইব্যুনালের জন্য চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, জোকায় কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনে’ জায়গা পাওয়া গিয়েছে। এখানেই ট্রাইব্যুনালের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা বসবেন। জলসম্পদ মন্ত্রকের অনুমতি এলে রাজ্য সরকার তা সাজিয়ে দেবে। তখনই কলকাতা হাইকোর্ট কতৃর্পক্ষ ট্রাইব্যুনালের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করবে। তারপরেই শুরু হবে বিচার পর্ব। ইতিমধ্যেই এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানোর জন্য পোর্টাল চালু হয়েছে।
তবে সূত্রের খবর, ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করতে করতে ভোট এসে যাবে। ফলে ‘অ্যাজুডিকেশন’ তালিকাভুক্তদের যাঁদের নাম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে ওঠেনি, তাঁদের এ বার ভোটাধিকার না–থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সিইও জানিয়ে দিয়েছেন, বিচারকরা যাঁদের নাম ‘ডিলিট’ করে দিয়েছেন, তাঁদের আবেদন শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনালেই বিচার্য। তাঁরা কোনওভাবেই নতুন করে ভোটার তালিকায় আবেদন জানাতে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না। তাঁরা সেটা করলে এবং কোনও ইআরও তা গ্রহণ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।