এই সময়: প্রশ্নগুলোর উত্তর অজানাই থেকে যাচ্ছে। দিঘার কাছে ওডিশার তালসারিতে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিভিন্ন লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ভাবে তিনি সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন তা নিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত ধোঁয়াশা কাটেনি। কারণ, তিনি সহ–অভিনেত্রীর সঙ্গে সমুদ্রের ভিতরে হেঁটে ঢুকে আচমকা তলিয়ে যান বলে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছে। অথচ প্রথমে শুটিং ইউনিটেরই কয়েক জন নৌকো উল্টে যাওয়ার কথা পুলিশকে জানিয়েছিলেন। সামগ্রিক ভাবে গাফিলতি এবং নিরাপত্তা না থাকার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেতা–অভিনেত্রীদের বড় অংশ।
শুটিংয়ের সময়ে শিল্পী এবং অন্য কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনও। তারাও বলছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রযোজনা সংস্থার গাফিলতির ফলেই এই মৃত্যু। তাদের দাবি, খরচ কমানোর জন্য প্রায়শই নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করা হয়, যার জেরে শিল্পী ও কর্মীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।
তদন্তে নেমেছে দিঘার পুলিশ। মঙ্গলবার জেলার ডিএসপি (ডিএন্ডটি) মোহিত মোল্লা জানিয়েছেন, অভিনেতার ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় রাত পর্যন্ত কেউ কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। যে হোটেলে রাহুলরা ছিলেন, সেই হোটেলের কর্মীদের, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাতে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসেনি। পুলিশের দাবি, নিছকই দুর্ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের হাতে কিছু ভিডিয়ো ফুটেজ এসেছে। তদন্তের স্বার্থে সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, শুটিং ইউনিটের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা, হোটেল কর্মীদের বয়ান থেকে দুর্ঘটনার আগে পর্যন্ত অভিনেতার আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত মেলেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুটিং চলাকালীন আচমকাই জলের গভীরতা বেড়ে যায়। তাতেই রাহুল তলিয়ে যান।
সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, প্রতি বছরই দেশে সিনেমা ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাবে টেকনিশিয়ান ও শিল্পীদের প্রাণহানি হয়। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ঘটনাগুলি ধামাচাপা পড়ে যায় এবং দোষীদের শাস্তি খুব কমই হয়। সূত্রের খবর, মঙ্গলবারেই রাহুলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে আর্টিস্ট ফোরামের ইন্টারনাল মিটিং হওয়ার কথা ছিল। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়–সহ কয়েক জন উপস্থিত হয়েছিলেন। ফোরামের সবাই উপস্থিত না থাকায় এই মিটিং হয়নি বলে জানা গিয়েছে।