পাটনা: গণধর্ষণের পর নগ্ন অবস্থায় দুই মহিলাকে রাস্তায় ঘোরাচ্ছে একদল দুষ্কৃতী। ২০২৩ সালে হিংসাদীর্ণ বিজেপি শাসিত মণিপুরের সেই দৃশ্য গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। এবার বুদ্ধভূমি বিহারের নালন্দা। জনবহুল রাস্তায় এক বিবাহিতা তরুণীর পোশাক ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণের চেষ্টা! দুষ্কৃতীদের বেলাগাম দৌরাত্ম্যের এই ঘটনায় বিজেপি জোট শাসিত রাজ্যে মহিলাদের সুরক্ষার বেহাল দশা নিয়ে সরব বিরোধীরা।
সম্মান বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তরুণী। সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন। কিন্তু নির্বিকার আশপাশের মানুষজন। পরে কয়েকজন বাধা দিলেও তাতে পাত্তা দেয়নি দুষ্কৃতীরা। উলটে ভিড়ের মাঝেই অসহায় তরুণীকে জাপটে ধরে, মুখ চেপে ধরে কুকর্মের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। তাঁর পোশাকও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। শেষপর্যন্ত পিছু হটলেও ঘটনার ভিডিয়ো দুষ্কৃতীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে অশোক যাদব ও মটরু মাহাত নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর এক অভিযুক্ত রবিকান্ত কুমারের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ঘটনায় আর কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শরিকদলের বেশে সূচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরিয়ে গিয়েছে বিজেপি। অপারেশন লোটাসে খতমের মুখে নীতীশ জমানা। তবে মোদি-নীতীশ ‘দুই বন্ধু’ই বরাবর বিহারের জঙ্গলরাজ মুছে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দামামা বাজিয়েছেন। নালন্দার এই ঘটনা সামনে আসার পর আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস সহ বিরোধীরা। হাত শিবিরের বক্তব্য, নালন্দার ঘটনা স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয়, এনডিএ-র আমলেই বিহারে ‘জঙ্গল রাজ’ চলছে। আসলে বিজেপি-জেডিইউ সরকার দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। এখন সেই অপরাধীরা রাস্তায় বেপরোয়া হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর কুকর্ম করে চলেছে। সরব আরজেডিও। তেজস্বীর দলের কটাক্ষ, মুখ্যমন্ত্রীর নিজের জেলার ঘটনা। ওঁর অবশ্য কোনো লজ্জা নেই। কারণ সবাই এখন গদি বাঁচানোর খেলায় ব্যস্ত।
মূল ঘটনা ২৬ মার্চের। নালন্দার নুরসরাই থানার এক গ্রামে বাপের বাড়িতে ছিলেন তরুণী। সন্ধ্যা প্রায় ৬-৭টার দিকে মুদি দোকান থেকে জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। তখনই তিনজন তাঁকে ঘিরে ধরে। ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এমনকী বাধা দিতে গেলে তাঁর কাপড় ছিঁড়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। পরে নির্যাতিতাকে জাপটে ধরে হাঁটতে শুরু করে। সমানে চলতে থাকে শ্লীলতাহানি। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় শুরুতে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। পরে অবশ্য জনতার প্রতিবাদের জেরে পিছু হটতে বাধ্য হয় ওই যুবকরা। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।