পাটনা: ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে গমগম করছিল কাঁসর-ঘণ্টার শব্দ। আরাধ্যা দেবীর নামে জয়ধ্বনি করছিলেন ভক্তরা। আচমকা সেসব চাপা পড়ল কান্না আর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দে। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ সামলাতে না পেরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ৯ জনের। আহত অন্তত ১২। কয়েকজনের অবস্থা যথেষ্ট আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার বিহারের নালন্দা জেলার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ডবল ইঞ্জিন বিহারে এমন ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। দায়ী করেছেন প্রশাসনিক গাফিলতিকেও। মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে তৃণমূলও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘাসফুল শিবিরের কটাক্ষ, ‘ডবল ইঞ্জিন’ শুধু ডবল মৃত্যু আর ডবল ধ্বংস উপহার দিচ্ছে। আর কত নিরীহ মানুষ মারা গেলে বিজেপি তার দায় নেবে?
কুম্ভমেলা থেকে হরিদ্বারের মনসা মন্দির, পুজো দিতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। তালিকায় নয়া সংযোজন নালন্দা জেলার বিহার শরিফের জনপ্রিয় শীতলা মন্দির। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ছিল চৈত্র মাসের শেষ মঙ্গলবার। তাই অস্বাভাবিক ভিড় হয়েছিল মন্দিরে। চাপ সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে যান অনেকে। হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আটজনের। পরে হাসপাতালে মারা যান আরও একজন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা। বিহার শরিফের সহকারী পুলিশ সুপার নুরুল হক বলেন, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। মৃতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই দুর্ঘটনা, এমনই আশঙ্কা প্রশাসনের। ইতিমধ্যেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে স্থানীয় দীপ নগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে (এসএইচও)। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পদপিষ্টের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বলেছেন, ‘বিহারের নালন্দা জেলায় এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ নিহতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করেছেন তিনি। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। ঘোষণা করেছেন মৃতদের পরিবারকে ৬ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার। যদিও আরজেডি নেতা তেজস্বী সোশ্যাল মিডিয়ায় পদপিষ্টে মৃত মহিলাদের ছবি পোস্ট করে গোটা ঘটনায় দায়ী করেছেন নীতীশ প্রশাসনকেই।