বিবেচনাধীনদেরও ভোটদানের অধিকার রয়েছে: প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার
বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে ‘বিবেচনাধীন’দেরও ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। কারণ তাঁদের নাম তো খসড়া তালিকা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। যদি শেষমেশ ৬০ লক্ষেরই সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে এসআইআরের নামে প্রকাশিত তালিকায় নয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারির তালিকাই বৈধ হওয়া উচিত। সেই তালিকাতেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন হওয়া দরকার। মঙ্গলবার এমনই সওয়াল করলেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক আলোচনাসভায় এসআইআরের নামে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কাজকর্মের সমালোচনা করলেন কুরেশি। একইভাবে শীর্ষ আদালতকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন। শেষ মুহূর্তে ভোটদানের হারে ব্যাপক বৃদ্ধি, ভোটের দিনের ফর্ম ১৭-সি এবং গণনার পর রেজাল্টের ফর্ম ২০-এর মধ্যে বিন্দুমাত্র ফারাক হলেই তা সন্দেহজনক বলেই মন্তব্য করলেন কুরেশি। তাই এ ব্যাপারে ‘ফরেনসিক অডিটে’র দাবি করলেন তিনি।
‘ভারত জোড়ো অভিযান’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আয়োজনে কনস্টিটিউশন ক্লাবে বসেছিল আলোচনা সভা। ‘চ্যালেঞ্জেস টু ইলেকটোরাল ইন্টিগ্রিটি: এক্সামিনিং রিসেন্ট এভিডেন্স অব ইলেকটোরাল ম্যানুপুলেশন’ শীর্ষক ওই আলোচনায় এস ওয়াই কুরেশির পাশাপাশি অংশ নেন ভোট বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, অর্থনীতিবিদ পারাকালা প্রভাকর। ঘটনাচক্রে তিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী। যদিও তিনি বিজেপি এবং অন্ধ্রপ্রদেশে এনডিএ শরিক চন্দ্রবাবু নাইডুর দল তেলুগু দেশম পার্টির নির্বাচনে জয়ের নেপথ্যে নির্বাচন কমিশনের সন্দেহজনক আচরণের অভিযোগ করতে পিছপা হলেন না।
বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রবল সমালোচনা করে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বললেন, নির্বাচন কমিশন হল একটি স্বচ্ছ সাংবিধানিক সংস্থা। কোনো কিছু লুকানোর নেই। কিন্তু আজকাল কমিশনে এমনই কাণ্ড ঘটছে। তথ্য লুকানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এই অতি সক্রিয় এসআইআরের আদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল না। ভারতের ভোটার তালিকা গত ৩০ বছরের চেষ্টায় ৯৯ শতাংশ সঠিক করা সম্ভব হয়েছে। সেই তালিকাকে কেন নতুন করে করা? কী উদ্দেশ্যে? এস ওয়াই কুরেশির মন্তব্য, যে শুদ্ধকরণের কাজ করতে ৩০ বছর লেগেছে, সেটি ৩০ দিনে সেরে ফেলার কোন জাদুদণ্ড রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের হাতে?
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যাদের (৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫) বিবেচনাধীনের তালিকায় ফেলা হয়েছে, তাঁরা জীবিত এবং খসড়া তালিকাতেও নাম রয়েছে। তাহলে তাদের নাম বাদ গেলে দায়ী কমিশন, ভোটার নন। তাছাড়া যতক্ষণ না নতুন তালিকা সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ সেটি বৈধ নয়। আগেরটিই বৈধ। ফলে ভোটের আগে সমস্যার সমাধান না হলে ২০২৫ সালের জানুয়ারির তালিকাতেই ভোট হওয়া উচিত। নাহলে বিবেচনাধীনদের আপাতত ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভোটের পর সমস্যার সমাধান করা উচিত বলেই মন্তব্য কুরেশির।