ফের প্রার্থী বদল, চারবারেও বাংলার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশে ব্যর্থ বিজেপি
বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার ফের রাজ্যে দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। এ নিয়ে চতুর্থবার। কিন্তু এদিন ১৩টি কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণার পরও সেই তালিকা পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল না। এখনও বাকি থেকে গেল ছ’টি কেন্দ্র— কৃষ্ণনগর উত্তর, কল্যাণী, নবদ্বীপ, দমদম উত্তর, মধ্যমগ্রাম এবং কলকাতা বন্দর। কারণ? সেই প্রার্থী বাছাই নিয়ে জটিলতা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পূর্বঘোষিত প্রার্থী পর্যন্ত বদলে দিতে হচ্ছে বিজেপিকে। এদিন প্রকাশিত তালিকায় ময়নাগুড়ি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে গেরুয়া ব্রিগেড। কৌশিক রায়ের বদলে টিকিট দেওয়া হয়েছে ডালিম রায়কে। এর আগে বিষ্ণুপুরেও প্রার্থী পালটাতে হয়েছে বিজেপিকে। অগ্নীশ্বর নস্করকে বদলে বিশ্বজিৎ খাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। সর্বত্রই নেপথ্য কারণ, দলের অন্দরের বিক্ষোভ। তার রেশই আছড়ে পড়ছে প্রার্থী তালিকায়। সিতাইতে যেমন গ্রেটার নেতা আশুতোষ বর্মাকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই এদিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিতাইয়ের বৈঠক। ভোট প্রস্তুতি দূরঅস্ত, প্রার্থী না বদলালে নরেন্দ্র মোদির সভায় পর্যন্ত যেতে অস্বীকার করেছেন দলের অধিকাংশ সদস্য।
মোদি-শাহ প্রচারে যতই বাংলার ব্যাপারে ‘আত্মবিশ্বাস’ দেখান না কেন, নেতা-কর্মীদের সামাল দেওয়া যে মুশকিল হচ্ছে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ প্রার্থী তালিকা। একের পর এক জনপ্রতিনিধির আসন বদলে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি বাদও পড়ে যাচ্ছেন অনেকে। এদিনও সিলমোহর পড়েছে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে চলা জল্পনায়। এই আসনে বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে আর টিকিট দেয়নি দল। তাঁর বদলে আনা হয়েছে গিরিজা শংকর রায়কে। তার থেকেও উল্লেখযোগ্য হল, বাগদা বিধানসভা আসনে প্রার্থী করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুরকে। এ নিয়ে অবশ্য চর্চা আগে থেকেই ছিল। অধিকারী বাড়ির পরিবারতন্ত্রকে ‘স্বীকৃতি’র পর এবার সোমাদেবী টিকিট পাওয়ায় বাগদায় লড়াই হতে চলেছে ননদ-বউদির। কারণ, এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর। কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সন্তোষ পাঠককে চৌরঙ্গি আসনে প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। অর্থাৎ, দলবদলুদের একটা বড় অংশকে টিকিট না দেওয়ার যে গালভরা ঘোষণা গোড়াতেই বিজেপি করেছিল, তার মান্যতা থাকল না।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোট বাংলায়। ভোটের যখন আর এক মাসও বাকি নেই, তখনও কেন ছ’টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী নিয়ে জট ছাড়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে? এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে দিল্লি থেকে কলকাতা। এমন উত্তপ্ত নির্বাচনি আবহে মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন টেনিস খেলোয়াড় লিয়েন্ডার পেজ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের বংশধর—এই পরিচয় ব্যবহার করে লিয়েন্ডারকে ‘ভোটযুদ্ধে’ নামাতে ইতিমধ্যেই মরিয়া বঙ্গ বিজেপি। লক্ষণীয় হল, এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েই বাংলায় ক্রীড়া পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে সরব হয়েছেন লিয়েন্ডার। তাঁকে কি প্রার্থী করবে বিজেপি? করলে কোথায়? জল্পনা জিইয়ে সুকান্তবাবু শুধু জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতৃত্বই স্থির করবে।