শিলিগুড়িতে পুড়ল নির্বাচন কমিশনারের কুশপুতুল, বিক্ষোভ অন্য জেলাগুলিতেও
বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বিচারাধীন হাজার হাজার ভোটারের নাম বাদ। ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা উত্তরবঙ্গ। সোমবারের পর মঙ্গলবারও জেলায় জেলায় পথ অবরোধ করেন বাসিন্দারা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ারা।
এই ইস্যুতে মঙ্গলবার উত্তাল হয় শিলিগুড়ি মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত। তালিকা থেকে বাদ যাওয়া পুরুষ ও মহিলারা হিলকার্ট রোডে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান। নির্বাচন কমিশনারের কুশপুতুল দাহ করেন। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম। দাবি জানায় ভোটের আগেই বাদ যাওয়া বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় তুলতে হবে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছ’টি বুথ থেকে ৭৬১ জন বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। দুপুরে তাঁরা রাস্তায় নামেন। হিলকার্ট রোডের হাসমিচকে অবরোধ করেন। এদিকে, হাসমিচকেই মঞ্চ বেঁধে এসআইআর ইস্যুতে দিনভর অবস্থান বিক্ষোভ করে তৃণমূল।
নকশালবাড়িতে রাজ্যসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি আসনের সিপিএম প্রার্থী ঝড়েন রায়। বিধাননগরের মালিগছে রাস্তা অবরোধ হয়। কুমারসিংজোত, তোতারামজোত, ভৈসাহাটি, হান্ডিবস্তি বুথের প্রায় ১২০০ বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ৫৩০ জনের নাম বাদ গিয়েছে। নকশালবাড়ির পার্টি অফিস থেকে বামেরা প্রতিবাদ মিছিল বের করে বিডিও অফিস পর্যন্ত যায়। পরে বিডিও অফিস সংলগ্ন রাজ্যসড়ক অবরোধ করে।
অন্যদিকে, ময়নাগুড়ির মাধবডাঙা-২ পঞ্চায়েতে নাম বাদ যাওয়া বাসিন্দারা বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি করলে গুলি খাব, কিন্তু রাস্তা থেকে সরব না। ময়নাগুড়ি থেকে চ্যাংরাবান্ধাগামী সার্ক রোড অবরোধ করেন বাসিন্দারা। দেড় ঘণ্টা চলে বিক্ষোভ। যুগ্ম বিডিও ইনজামুল হক এসে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলার পর অবরোধ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল হক বলেন, আমার ঠাকুরদার, বাবার জন্ম এখানে। অথচ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হল। একই কথা বলেন রফিকুল ইসলাম, আকের আলি।
মাথাভাঙা মহকুমার তিন জায়গায় অবরোধ করা হয়। শহরের কলেজ মোড়ে রাজ্যসড়কে বসে পড়েন ভোটাররা। পচাগড় মোড়েও হয় অবরোধ। প্রায় তিন ঘণ্টা তা চলে। মাথাভাঙা-২ ব্লকের ঘোকসাডাঙা হিমঘর চৌপথিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন ভোটাররা। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা রাস্তা অবরুদ্ধ থাকে। ঘোকসাডাঙার বিবেক সরকার, পচাগড়ের আব্দুল সামাদ মিয়াঁ বলেন, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলাম। ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মাথাভাঙা-১ এর যুগ্ম বিডিও অভিষেক মণ্ডল পচাগড়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে দেন। ঘোকসাডাঙায় আসেন মাথাভাঙা-২ এর যুগ্ম বিডিও কল্যাণ রায়।
সকাল ১০টা নাগাদ দিনহাটা থেকে সাহেবগঞ্জগামী রাজ্যসড়কের ২ নম্বর পুলে অবরোধ করেন বাসিন্দারা। খবর পেয়ে আসেন দিনহাটা-১ এর বিডিও বিশাখ ভট্টাচার্য, দিনহাটা থানার আইসি বুদ্ধাদিত্য রায়। আধিকারিকদের আশ্বাসে ওঠে অবরোধ। বিক্ষোভকারীরা বলেন, কারও বাবার নাম আছে তো ছেলের নাম নেই। আবার কোথাও ছেলের নাম আছে বাবার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের মহিষকুচি-১ পঞ্চায়েতের একাংশ বাসিন্দা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফেরানোর দাবিতে বক্সিরহাট-সালডাঙা রাজ্যসড়ক অবরোধ করেন। যান চলাচল ব্যাহত হয়। বলরামপুর সরেয়ারপরে দিনহাটা-বলরামপুর রাজ্যসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান কয়েকশো বাসিন্দা। ঘণ্টা দেড়েক অবরোধ চলে।
আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পররপাড়ের ডিলিটেড ভোটাররা আলিপুরদুয়ার-ফালাকাটা ৩১ডি জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। কালজানি সেতুর কাছে এই অবরোধ হয়। তৃণমূলের এসসি, ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি পীযূষকান্তি রায় বলেন, ১০১ নম্বর বুথে বিচারাধীন তালিকায় ১৬২ জন ভোটারের নাম ছিল। ১৪১ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কুমারগ্রাম ব্লকের খোয়ারডাঙা-১ পঞ্চায়েতের সাইনবোর্ড এলাকায় পথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা। টায়ার জ্বালিয়ে দীর্ঘক্ষণ চলে বিক্ষোভ-অবরোধ।