• লোকসভার লিডে নিশ্চিন্ত হামিদুল ভোট ভাগাভাগির হিসাব কষছে বিজেপি
    বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • মুতাহার কামাল, চোপড়া: চোপড়ার রাজনীতির লড়াইটা এবার অনেকটা দাবা খেলার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে গুটি সাজানো হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু শেষ চালটা কে দেবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। একদিকে হামিদুল রহমানের সংগঠন আর উন্নয়নের তাস, জাকির আবেদিনের হাত ধরে কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের আশা। তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে মেরুকরণ আর সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগির অংকে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বিজেপিও।

    উত্তর দিনাজপুরের এই বিধানসভা কেন্দ্রে গত লোকসভা নির্বাচনের ফলের দিকে তাকালে মনে হতে পারে, হামিদুল নিশ্চিন্তেই আছেন। ৯২ হাজার ভোটের পাহাড়প্রমাণ লিড কম কথা! খাতা-কলমের হিসাবে তিনি পাহাড়ের চূড়ায় বসে আছেন, আর বিরোধীদের দেখতে হচ্ছে দুরবীন দিয়ে।  

    কিন্তু রাজনীতির ময়দান আর অঙ্কের খাতা সব সময় এক কথা বলে না। দীর্ঘ দুই দশক পর কংগ্রেস সরাসরি প্রার্থী দিয়েছে। এখানেই আসল টুইস্ট। তৃণমূলের এক সময়ের পুরনো যোদ্ধা, ব্লক সহ-সভাপতি জাকির এখন ‘হাত’ চিহ্ন নিয়ে লড়ছেন। তাঁর অস্ত্রও সাংগঠনিক দক্ষতা।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার চোপড়ায় লড়াই মূলত তৃণমূল বনাম বিজেপি হলেও অন্যতম ফ্যাক্টর কংগ্রেস। স্থানীয়দের মতে, গত দুই দশকে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক মূলত তৃণমূলের দিকেই ঝুঁকেছে। কিন্তু এবার জাকিরের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং পুরনো সাংগঠনিক দক্ষতা যদি তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসায়, তবে সুবিধা পেতে পারে বিজেপি। চর্চা এখন একটাই-কংগ্রেস যত ভোট কাটবে, বিজেপির লড়াইয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে, বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর অধিকারীকে নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তলায় তলায় বড় ক্ষতি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শঙ্কর বলেন, দুর্নীতি, বন্ধ চা বাগান এবং কর্মসংস্থানের অভাবকে কাজে লাগিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে ।

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হামিদুল প্রায় ৬১.২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এখানে ১,৩৩,২৭৬ ভোট পেয়েছিল। লিড ছিল ৯২,১৩১। বিপরীতে বিজেপির ঝুলিতে ৪১,১৪৫ ভোট। আপাতদৃষ্টিতে এই ব্যবধান দুর্জয় মনে হলেও, এবারের লড়াইয়ে কিছু অংক নিয়ে আলোচনা চলছে। এই কেন্দ্রে প্রায় ৬৩ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত হিসাব কী দাঁড়াবে, এখনও স্পষ্ট নয়। কংগ্রেস প্রার্থী যদি এই ৬৩ শতাংশে বড়সড় ভাঙন ধরাতে পারেন, তবে তৃণমূলের লিড কমতে পারে। আবার, ৩৭ শতাংশ হিন্দু রাজবংশী ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের সিংহভাগই বর্তমানে গেরুয়া শিবিরের দখলে। বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর অধিকারীর পাখির চোখ এখন এই ভোট ধরে রাখা।

    ইসলামপুর ব্লকের দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে ইসলামপুর বনাম চোপড়া নেতৃত্বের মধ্যে যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছিল, তাতে ইতি পড়ে যাওয়া তৃণমূলের বাড়তি পাওনা।

    তৃণমূল প্রার্থী হামিদুল চরম আত্মবিশ্বাসী। ভোট ঘোষণার আগেই তিনি দু-দফায় জনসংযোগ এবং উন্নয়নের পাঁচালী নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গিয়েছেন। বলছেন, আমাদের জয় নিশ্চিত। কে দ্বিতীয় হবে, তা নিয়েই লড়াই বিজেপি ও কংগ্রেসের। কংগ্রেস ব্লক সভাপতি মহম্মদ মসিরুদ্দিনের দাবি, মানুষ আর তৃণমূলকে চাইছে না। আমাদের লড়াই বিজেপির সঙ্গেই। 

    চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহকারী সভাপতি মকলেসর রহমানকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। একদা বাম দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই  কেন্দ্রে বামেরা কতটা জমি ফিরে পায়, সেদিকেও নজর রয়েছে। মকলেসরের কথায়, মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে বোঝাচ্ছি, কীভাবে তাঁদের দিনের পর দিন বিভ্রান্ত করা হয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)