পাঁচ বছরে একটিও সেতু বানাতে পারেননি ছোট কাজে গুরুত্ব দিয়েছেন, দাবি বিধায়কের
বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: বড়ডোবা ও জটেশ্বরের গঙ্গামণ্ডল ঘাটে মুজনাই নদীর উপর সেতু, ফালাকাটায় বৈদ্যুতিক চুল্লি প্রভৃতি। এমন অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েই একুশের ভোটে জিতে এসেছিলেন ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন। কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখতে পারেননি পদ্মফুলের বিধায়ক। একজন বিধায়ক পাঁচ বছরে তাঁর বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পান। অন্য বিধায়কদের মতো দীপকবাবুও তাঁর বিধায়ক তহবিলের পুরো টাকা পেয়েছেন। কিন্তু তার মধ্যে ১ কোটি টাকা খরচই করতে পারেননি বিধায়ক। বিরোধীরা ও সাধারণ মানুষ বলছেন, গত পাঁচবছরে দীপকবাবু তো শুধু কলকাতা যাওয়া আসাই করেছেন। তিনি তো এলাকাতেই ছিলেন না। সেই জন্যই বিধায়ক তাঁর এমএলএ ফান্ডের পুরো টাকা খরচে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিধায়ক নিজেও বলছেন তাঁর বিধায়ক উন্নয়নের ১ কোটি টাকা তিনি খরচ করতে পারেননি। তাহলে কি দেরি করে কাজের প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য পদ্মফুলের বিধায়ক তার তহবিলের ১ কোটি টাকা খরচ করতে পারেননি? ব্যর্থতা ঢাকতে বিধায়কের অবশ্য সাফাই, তিনি সময় মতোই উন্নয়ন কাজের প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। ফের নির্বাচিত হলে বাকি কাজ সম্পন্ন করবেন।
সিপিএমের ফালাকাটা-১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক অনির্বাণ রায় বলেন, বিজেপি বিধায়ক উন্নয়নের কাজ করবেন কি করে, উনি তো প্রায় দিনেই কলকাতা যাওয়া আসা করেছিলেন। এলাকাতেই ছিলেন না। সেই জন্যই তো কোনো কাজের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি।
এদিকে, সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পাঁচবছরে বিধায়ক ছোটোখাটো কিছু কাজ ছাড়া তো এমন কোনো উন্নয়ন তো করেননি। ফালাকাটা কৃষি নির্ভর এলাকা। কৃষি উন্নয়নেও বিজেপি বিধায়ক কোনো উল্লেখ্যযোগ্য কাজ করে দেখাতে পারেননি। বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় এই মুহূর্তে কমপক্ষে ১০টি সেতুর প্রয়োজন। বিধায়ক কোনো সেতুই তৈরি করতে পারেননি। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি (গ্রামীণ) সঞ্জয় দাস বলেন, এমএলএ তাঁর বিধায়ক তহবিলের অর্থ কোথায় খরচ করেছেন তা বলতে পারছেন না। তিনি তো এলাকাতেই থাকেন না। সেই জন্য তো প্রশাসনের কাছে সময় মতো কাজের প্রস্তাব জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি বিধায়ক তহবিলের টাকাই খরচ করতে পারেননি।
সেতু তৈরি করতে না পারার বিষয়ে বিধায়ক দীপকবাবুর অবশ্য পাল্টা যুক্তি, আমার বিধানসভা এলাকায় এক একটি সেতু তৈরিতে খরচ হত কমপক্ষে এক থেকে দেড় কোটি টাকা। সেই জন্য ছোট ছোট কাজে বেশি নজর দিয়েছি। হাতির উপদ্রব থেকে গ্রামবাসীদের বাঁচাতে অসংখ্য পথবাতি, হাইমাস্ট বসানো, স্কুলের ভিতরে পেভার ব্লক ও রাস্তায় পেভার ব্লক ও স্কুলের প্রাচীর তৈরির কাজ করেছি। বেশকিছু স্মার্ট ক্লাসের জন্য টাকা দিয়েছি। বিধানসভা এলাকায় তিনটি শ্মশান তৈরিতেও টাকা দিয়েছি। সেচের কাজের জন্য এলাকায় পাঁচটি ডিপ টিউবওয়েল বসানোর কাজে টাকা দিয়েছি। এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।