• চায়ের দোকানে আড্ডা, চেনা ময়দানে খেলা শুরু অধীরের, পাড়ায় পাড়ায় হেঁটে প্রচার কংগ্রেস প্রার্থীর
    বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • অভিষেক পাল, বহরমপুর: বহরমপুরের রাজনৈতিক মাঠ তাঁর বড্ড চেনা। কিন্তু পাল্টে গিয়েছে অনেক কিছুই। আগের মাঠের সেই সাজানো বাগান নেই। তাঁর আশপাশে একদা ঘিরে থাকা অনেক চেনামুখ আর সঙ্গে নেই। তবুও তাঁর নামের সঙ্গে বহরমপুরের যোগসূত্র অত্যন্ত গভীর। এখনও রাজনৈতিক মহলের কাছে তাঁর পরিচয় অধীর চৌধুরী মানেই বহরমপুর। বহরমপুর মানেই অধীর।  

    মঙ্গলবার এই ‘ক্যারিশমা’র উপর ভর করেই প্রচার শুরু করে দিলেন সবার ‘অধীর দা’। ঘড়িতে তখন সকাল আটটা। বহরমপুরের ওয়াইএমএ ময়দান।  সেখানে খেলতে আসা কিশোর ও যুবকদের সঙ্গে আলাপচারিতা সারেন তিনি। ফুটবলে শট মেরে গোলও করেন। আগের দিন সন্ধ্যায়ও ভাগীরথীর পাড়ে কেএন কলেজ ঘাট সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে খোশমেজাজে আড্ডাও দিয়েছেন। ঘরের ছেলের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথাও বলেছেন সকলেই। 

    দীর্ঘ ৩০ বছর পর বিধানসভা ভোটের ময়দানে অধীর। লক্ষ্য একটাই, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে নতুন করে চাঙ্গা করা। আর সেটা করতে হলে বিধানসভার অন্দরে প্রয়োজন জোরাল কণ্ঠস্বর। এই লক্ষ্যের কথা বহরমপুরবাসীর কাছে তুলেও ধরছেন। লড়াইয়ে মূল প্রতিপক্ষ একদা তাঁরই ছায়াসঙ্গী বিজেপির সুব্রত মৈত্র এবং তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। ত্রিমুখী লড়াইয়ে কে হাসবে, সেটা পরের কথা। আপাতত চেনা ময়দানে স্বতস্ফূর্ত অধীরবাবু বেশ আত্মবিশ্বাসী। 

    এদিন প্রচারের ফাঁকে তিনি বলছিলেন ‘বহরমপুরের মানুষ বরাবরই আমাকে বিশ্বাস করেছেন? এবার আমার পাশেই থাকবেন। নির্বাচনের নিয়মই হল মানুষের কাছে যাওয়া। তাঁদের সঙ্গে মেলামেশা করা। ছোটবেলায় এই মাঠেই তো খেলেছি। তাই প্রচারের শুরুটাও এখান থেকেই করলাম।’ বহরমপুরের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গোটা বহরমপুর শহরে ধীরে ধীরে কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অনেক সমস্যা দেখা দিচ্ছে, লুঠপাট চলছে। সব কিছুতেই ট্যাক্স বসানো হচ্ছে। মানুষ সমস্যায় জর্জরিত। শেষ লোকসভা ভোটে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের জন্য আমি আশানুরূপ ভোট পাইনি। কিন্তু আমার হারের পর এখানকার মানুষ আফশোষ করেছেন। বলছেন এটা ঠিক হয়নি। এবার  আশা করছি মানুষের সমর্থন পাব।’

    এদিনই অধীরবাবুর আত্মবিশ্বাস আরও বড়িয়ে রানিনগরের পাহাড়পুর অঞ্চলের দাপুটে নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। বহরমপুরে কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে তাঁর হাত ধরে তৃণমূল পঞ্চায়েতের প্রধান দেলশাদ হোসেন এবং আরও ১৪ জন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কংগ্রেসে যোগ দিলেন। এছাড়াও তৃণমূলের অস্বস্তি বানিয়ে প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য মুস্তাফা সরকারের (নেতাজুল) কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এরফলে, রানিনগর ব্লকে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি কার্যত তলানিতে এসে ঠেকল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেন বলেন, ‘মানুষ কারও মুখ দেখে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দেখেই ভোট দেন। দু’-চার জন নেতার দলত্যাগে ভোটের ফলে প্রভাব পড়বে না।’  বহরমপুরে প্রচার অধীরের।
  • Link to this news (বর্তমান)