বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেললাইন আমিই চালু করেছি, বিজেপি বর্বরের দল, গান্ধীজি ও নেতাজিকে বর্জন করেছে: মমতা
বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: ‘বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেলপ্রকল্প আমার আমলে তৈরি। ওরা ফিতে কেটে নিজেদের সাফল্য বলে প্রচার করতে চাইছে। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন আমিই বিষ্ণুপুর, জয়রামবাটি, কামারপুকুর ও তারকেশ্বর এই চার তীর্থক্ষেত্রকে সংযুক্ত করেছিলাম। এমনকি, বিষ্ণুপুর থেকে গোকুলনগর পর্যন্ত রেল চালুর ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা নিজেদের সাফল্য বলে প্রচার করছে।’ মঙ্গলবার বিষ্ণুপুরে দলের প্রার্থী তন্ময় ঘোষের সমর্থনে নির্বাচনি প্রচারে এসে এলাকার বাসিন্দাদের সেকথা স্মরণ করিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে ‘বর্বরের দল’ বলেও তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। ১০০দিনের কাজ প্রকল্পে গান্ধীজির নাম বাদ দেওয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ১০০দিনের কাজের প্রকল্পের নাম বদল করেছে কেন্দ্র। তা নিয়ে এদিন কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, যেদিন ১০০দিনের কাজের প্রকল্পে গান্ধীজির নাম বাদ দিল জানতে পারামাত্রই আমরা কর্মশ্রীর নাম দিলাম মহাত্মাশ্রী। ওরা গান্ধীজি-নেতাজিকে বর্জন করে, আমরা গ্রহণ করি। বিজেপি বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে। বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা আরও বলেন, বিষ্ণুপুরে দু’বার বিজেপি সাংসদ হয়েছে। কিছুই উন্নয়ন করেনি। নোটবন্দি, এসআইআর নিয়েও তিনি সরব হন। শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নিয়োগ করতে চাইছি। ওরা মামলা করে আটকে দিচ্ছে। ‘আগে চিরকুটে চাকরি হত’ বলেও বিরোধীদের কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী।
বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেল নিয়ে এলাকার মানুষের আবেগ রয়েছে। কারণ, বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার বাসিন্দাদের খড়্গপুর হয়ে কলকাতা যেতে হয়। আরামবাগ-তারকেশ্বর রেল চালু হলে দূরত্ব কমবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ওই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। তারপর কয়েক দশক কেটে গিয়েছে। ভাবাদিঘিতে জমিজটে প্রকল্প থমকে গিয়েছিল। বিষ্ণুপুর থেকে প্রথমে গোকুলনগর এবং সম্প্রতি জয়রামবাটি পর্যন্ত রেল চালু করা হয়। তাতেই বিজেপি ভোটের ময়দানে তাদের সাফল্য বলে প্রচার শুরু করে। আদতে এই প্রকল্প তাঁরই হাত ধরে চালু হয়েছে, এদিন সভা থেকে সেকথা মনে করিয়ে দেন মমতা।
এছাড়া এদিন বিষ্ণুপুর ও বাঁকুড়া জেলার উন্নয়নের নানান কাজ তুলে ধরেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী বলেন, বিষ্ণুপুরের শ্যামরাই, জোড়বাংলো, রাসমঞ্চ, দলমাদল প্রভৃতি মন্দির রক্ষণাবেক্ষণে ২২কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। লালবাঁধের সৌন্দর্যায়ন, পোড়ামাটির হাট হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েদের জন্য একটি মার্কেটিং হাব করা হচ্ছে। মিউজিয়াম সংস্কারের জন্য ১০লক্ষ টাকা করা হয়েছে। বিষ্ণুপুর মিউজিয়ামে তিন হাজার প্রাচীন দুষ্প্রাপ্য পুঁথি ডিজিটাইজ করা হয়েছে।
এদিন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষের বক্তব্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি খুশি হয়েছি। আমার প্রার্থী মাটিতে প্রণাম করে বলছে অনিচ্ছাকৃত ভুল করে থাকলে ক্ষমা করতে। এটাই তো বাংলা। এদিনের সভায় বিষ্ণুপুর ছাড়াও কোতুলপুরের তৃণমূল প্রার্থী হরকালি প্রতিহার, ইন্দাসের প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদি, সোনামুখীর কল্লোল সাহা, ওন্দার সুব্রত দত্ত ও বড়জোড়ার জোড়াফুল প্রার্থী গৌতম মিশ্র সভায় উপস্থিত ছিলেন।