গঙ্গার ভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে শাসক, বিরোধী সব দলই
বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: গঙ্গার আগ্রাসী রূপই এখন স্তিমিত। তবুও নদীগর্ভে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে কয়েক হাজার মানুষের। এই আবহেই ভাঙন-বিধ্বস্ত চাচণ্ডে ঝোড়ো প্রচার সারলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নুর আলম। নির্বাচনী ময়দানে নেমে তাঁর প্রধান হাতিয়ারই হল ভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি। এদিন শিবপুর, উত্তর ও মধ্য চাচণ্ড এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে মানুষের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন তিনি। এলাকার সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা ভাগ করে নেন। পাশাপাশি এদিন লালগোলা, সূতি ও জঙ্গিপুরে প্রচার সারেন শাসকদলের প্রার্থীরা। বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও প্রচারে ঝাঁপান। সবমিলিয়ে শাসক দল সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রচার এখন তুঙ্গে।
এ প্রসঙ্গে নুর আলম বলেন, জয়ী হলে আমার প্রথম ও প্রধান কাজ হবে ভাঙন আটকানো। মানুষ যাতে নিজেদের বসতভিটায় নিশ্চিন্তে ঘুমতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ করব। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যেভাবেই হোক ভাঙন রোধের চেষ্টা করবো।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই চাচণ্ডের অলিগলিতে প্রচারের উত্তাপ লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রার্থীর গলায় শোনা যায় দৃঢ় প্রত্যয়। ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারাও তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন প্রার্থীর কাছে। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে গঙ্গার ভাঙন তাঁদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। নুর আলম এদিন ভোটারদের আশ্বস্ত করে জানান, তৃণমূল সরকার উন্নয়নের পক্ষে এবং গঙ্গা ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি সর্বশক্তি দিয়ে লড়বেন। কেবল চাচণ্ড নয়, এদিন রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রান্তে কোমর বেঁধে প্রচারে নামে শাসক দল। লালগোলার ময়া এলাকায় প্রচারে অংশ নেন বিদায়ী বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান। সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। অন্যদিকে, এখানে প্রচারের ব্যাটন সামলাচ্ছেন ইমানী বিশ্বাস। জনসংযোগে কোনও খামতি রাখছেন না তিনি। পাশাপাশি জঙ্গিপুরের জরুর এলাকায় বিশাল মিছিল ও পথসভা করেন জাকির হোসেন। অনুগামীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
শাসক দলের এই সক্রিয়তার বিপরীতে হাত গুটিয়ে বসে নেই বিরোধীরাও। সূতি, রঘুনাথগঞ্জ ও আশপাশের বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিজেপি এবং বাম ও কংগ্রেস জোটের প্রার্থীরাও জোরদার প্রচার চালাচ্ছেন। মূলত কর্মসংস্থান, পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা এবং স্থানীয় স্তরে দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করেই শাসকদলকে বিঁধছে বিরোধী শিবির। সূতির কংগ্রেসের প্রার্থী আলফাজউদ্দিন বিশ্বাস এদিন অরঙ্গাবাদ এলাকায় বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচার করেন। জঙ্গিপুরের প্রার্থী ইমরান আলি এদিন জরুর এলাকায় সভা করেন। ইমরান আলি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় পানীয়জল পাচ্ছেন না মানুষ। রাস্তাঘাটের অবস্থা ও বেহাল। শাসকদলের জনপ্রতিনিধি কিছু করেননি। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুজিত দাস বলেন, আমাদের দলের প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন, সাধারণ মানুষের যা সাড়া মিলছে তাতে আমরাই সরকার গড়ব।
ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, গঙ্গা তীরের এই জনপদে রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ‹ভাঙন রোধে›র প্রতিশ্রুতি নুর আলমের নৌকায় কতখানি হাওয়া দেয়, তা বলবে ব্যালট বক্স।