াটের অধিকার ফিরে পেতে লাইনে প্রিসাইডিং অফিসারও! সকাল থেকে বর্ধমানের এসডিও অফিসে থিকথিকে ভিড়
বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করেন। ভোট পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই থাকে। অথচ সেই পোলিং অফিসারের নামই ভোটার তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ করে দেওয়া হল। নাম তোলার জন্য বর্ধমানে মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়ালেন প্রিসাইডিং অফিসার আয়ুব আলি। ভোট নেওয়ার জন্য তাঁর প্রশিক্ষণ চলছে। অথচ বর্ধমান শহরের বাসিন্দা ওই শিক্ষক ভোটার তালিকা সার্চ করতে গিয়ে দেখেন তাঁর নাম নেই। তিনি বলেন, আমি অন্যের ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করব। অথচ আমার ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। ১৯৮৬ সালের মাধ্যমিকের অ্যাডমিট, মার্কশিট রয়েছে। ১৯৪৯ সালের সালের জমির দলিল রয়েছে। তারপরও কি না, আমি বৈধ ভোটার নই। আগের তালিকায় আমার নাম ছিল আয়ুব আলি শেখ। পরের তালিকায় নাম হয় আয়ুব আলি। শুধু এইটুকু ভুলের জন্য নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হল। ট্রাইবুনালে আবেদন করার জন্য সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি।
ট্রাইবুনালে আবেদনপত্র জমা করতে এদিন সকাল থেকেই মহকুমা শাসকের দপ্তরে লম্বা লাইন পড়ে যায়। নাম বাদ পড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। ভাতারের বলগোনার ৭০ বছরের বৃদ্ধা লুৎফুন্নেসা বিবি বলেন, আমাদের সাতপুরুষের জন্ম এখানেই। তারপরও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হল। খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। কমিশনের কাছে জোড়হাত করে অনুরোধ করেছি, ভোটার তালিকায় যাতে নাম তোলা হয়। এই বয়সে এসে এত অশান্তির মধ্যে পড়তে হবে বলে কোনো দিনই ভাবেনি। সেই ভাতার থেকে বর্ধমানে এসে ফর্ম জমা করতে হল। এরপর কী হবে জানি না। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুসলিম ভোটারদের নাম বেশি বাদ দেওয়া হয়েছে।
মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বড়পলাশন পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকটি পার্টে ৩০০ থেকে ৩৫০জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু নাম বা পদবীর বানান ভুলের জন্য অনেককে ‘ডিলিট’ করে দেওয়া হয়েছে।
বর্ধমান দক্ষিণের কংগ্রেস প্রার্থী গৌরব সমাদ্দার বলেন, মানুষগুলিকে এভাবে বারবার লাইনে দাঁড়াতে দেখে খারাপ লাগছে। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং অসুস্থদেরও আসতে হচ্ছে। সামান্য ভুলের জন্য ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের ভুলের জন্যই এই মানুষগুলিকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, কমিশনের নিজস্বতা বলে কিছু নেই। বিজেপি যেটা বলেছে ওরা সেটাই করেছে। এভাবে নাম বাদ দিয়েও ওরা বিজেপিকে জেতাতে পারবে না। মানুষ যোগ্য জবাব দেবে। বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত মতো কাজ করছে। তৃণমূল হারার ভয়ে নানা কুৎসা ছড়াচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, নাম বাদ যাওয়ায় বহু জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র