• পরিবারতন্ত্র নাকি পরিবর্তন? ভাটপাড়ায় দুই ফুলের জোর লড়াই, আশায় বামেরাও
    বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: একসময় ছিল বাম দুর্গ। প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী বিদ্যুৎ গঙ্গোপাধ্যায় জিততেন এই কেন্দ্র থেকে। সেই ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে কার্যত একটি পরিবারের শাসন চলছে! কংগ্রেসের টিকিটে এখান থেকে তিনবার জয়ী হন সত্যনারায়ণ সিং। তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে চার বার বিধায়ক হয়েছেন তাঁর ছেলে অর্জুন সিং। আর বিজেপির প্রার্থী হিসাবে পরপর দু’বার জিতেছেন তাঁর ছেলে পবন সিং। অর্থাৎ, দল যা-ই হোক না কেন, গত তিন দশক ধরে ভাটপাড়ার দখল ধরে রেখেছে সিং পরিবার। এবারও এই ‘পরিবারতন্ত্র’-এর পুনরাবৃত্তি, নাকি পরিবর্তন? ভোটবাজারে ভাটপাড়াজুড়ে চলছে জোর চর্চা। 

    বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অন্যতম নজরকাড়া আসন ভাটপাড়া। দিন কয়েক আগে রামনবমী গিয়েছে। তিনকোনা গেরুয়া পতাকায় ছেয়ে আছে গোটা এলাকা। ভোটারদের সিংহভাগই অবাঙালি। এসআইআরের পর অবাঙালি ভোটার কিছু কমলেও তাঁদের সংখ্যা এলাকার বাঙালি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারের থেকে বেশি। এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ভাটপাড়ার পরিচিত মুখ অমিত গুপ্তা। প্রচারে বেরিয়ে তিনি এই পরিবারতন্ত্রের কথাই তুলে ধরছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছেন, ‘ভাটপাড়া কি একটি পরিবারের সম্পত্তি হয়ে গিয়েছে। এবার পরিবর্তন আনুন। উন্নয়নের বন্যা বয়ে যাবে। বদলে যাবে ভাটপাড়ার চেহারা।’ পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না এবারের বিজেপি প্রার্থী পবন সিং। তবে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আমার রাজনীতিতে আসার কোনো ইচ্ছা ছিল না। বয়স্ক মানুষদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তাঁদের সেবা করাই উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু ২০১৯-এ বাবা বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সাংসদ হলেন। তখন পরিস্থিতির দাবি মেনে আমি রাজনীতিতে এলাম। আমি কখনোই ভাটপাড়ায় সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিইনি। ভাটপাড়ার মানুষ আমাদের পরিবারকেই আপনজন মনে করে।’ লড়াইয়ে রয়েছেন বামফ্রন্টের সিপিএম প্রার্থী তথা প্রবীণ বাম নেতা আশ নারায়ণ সিং। তাঁর প্রচারেও উঠে আসছে সিং পরিবারের একাধিপত্যের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘২০১১ সালের পর থেকে তো গুন্ডাগিরি করে ভোটে জেতা হয় এখানে। তবে মানুষ এবার পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। ভাটপাড়ার জুট মিল শ্রমিকদের উন্নয়নের স্বার্থে বামপন্থীদের ফিরিয়ে আনবে আবার।’ 

    এ তো গেল প্রার্থীদের কথা। তাঁদের লড়াইয়ের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও। উঠে আসছে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত। সোমবার কাঁকিনাড়া বাজারে চায়ের দোকানে জোর আড্ডা চলছিল ভোট নিয়ে। সুরজ সাউ নামে এক চটকল শ্রমিক বললেন, ‘ভাটপাড়া সিং পরিবারের সঙ্গেই থাকবে। কারণ, মানুষের আপদেবিপদে তাদেরকেই পাশে পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে পাশে বসা যুবক বলরাম সাউয়ের প্রতিক্রিয়া, ‘বারবার এক পরিবার কেন? চেঞ্জ হলে ক্ষতি কোথায়? এবার পরিবর্তন দরকার।’ ভাটপাড়া পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রদ্যুৎ ঘোষ অবশ্য সিং পরিবারের প্রতিই তাঁর আস্থা প্রকাশ করলেন। ইতিমধ্যে সব পক্ষই জোরদার প্রচারে নেমে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত ভাটপাড়াবাসী সিং পরিবারকেই আবার দায়িত্ব দেয়, নাকি পরিবর্তন নিয়ে আসে, তা জানার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে ৪ মে পর্যন্ত।
  • Link to this news (বর্তমান)