‘এপ্রিল মাসজুড়েই প্রচার করার কথা ছিল রাহুলের’, অভিনেতার সূচি নিয়ে স্মৃতিচারণায় সিপিএম
বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তালসারিতে শ্যুটিংয়ে গিয়ে আর ফিরলেন না অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত বাঙালি। শোকাহত সিপিএমের কর্মী-সমর্থক থেকে নেতৃত্ব। কারণ, রাহুল প্রকাশ্যে বামপন্থীদের হয়ে কথা বলতেন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতেন। ভোট প্রচারেও তাঁর যোগদান ছিল সক্রিয়। তবে হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে আর প্রচারে নামা হল না রাহুলের। কবে, কোথায় প্রচারে নামবেন সেসব নিয়ে ইতিমধ্যেই নেতৃত্বের সঙ্গে একপ্রস্থ আলোচনা হয়ে গিয়েছিল তাঁর, এমনটাই জানাচ্ছেন সিপিএম নেতারা। এখন তাঁদের মুখে শুধুই স্মৃতি।
রাহুলের শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততা ছিল, পাশাপাশি থিয়েটারের শো ছিল। তাই আগেভাগেই সিপিএমের নেতারা ঠিক করছিলেন রাহুলের ডেট নেওয়ার। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত বলছিলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কথাবার্তা হয়ে গিয়েছিল। রাহুল তো টালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় থাকতেন। ওই কেন্দ্রের প্রচারে থাকতেনই। এর পাশাপাশি যাদবপুর, বেহালাতেও প্রচারে যাওয়ার কথা হচ্ছিল তাঁর। দীপ্সিতা ধরের হয়ে দমদম উত্তর এবং ময়ূখ বিশ্বাসের হয়ে দমদমেও যাওয়ার কথা হয়েছিল রাহুল অরুণোদয়ের সঙ্গে। তিনি মুর্শিদাবাদে যাবেন কি না কথাবার্তা চলছিল তা নিয়েও। সব মিলিয়ে গোটা এপ্রিল মাসজুড়ে রাহুলের প্রচার করার কথা ছিল।’ কিন্তু সেই কথা শেষ পর্যন্ত আর রাখা হল না। এক সিপিএম নেতার স্মৃতিচারণা, রাহুল শুধু বলতেন, ওঁকে বক্তব্য রাখতে হলে তা আগে বলে দিতে। কারণ, রাহুল বক্তব্য লিখে নিয়ে যেতেন। শেষ যাত্রায় মহম্মদ সেলিম, শমীক লাহিড়ী, দীপ্সিতা ধরসহ সিপিএমের বহু নেতা-কর্মী উপস্থিত হয়েছিলেন। অভিনেতা রাহুলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল ছাত্র সংগঠন এসএফআই, যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের। এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে রাহুলের মৃত্যুর তদন্তের দাবি করেছেন। বলছিলেন, আগামী ২ এপ্রিলের মিছিলেও ওঁর উপস্থিত থাকার কথা ছিল।