এসআইআরের চাপ? বাঁশদ্রোণীতে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী ডায়মন্ডহারবারের মহিলা এইআরও
বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের এসআইআরের বলি এরাজ্যে! এবার এসআইআরের চাপে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা এইআরও। মৃতার নাম মালবিকা রায় ভট্টাচার্য (৪৮)। মালবিকাদেবী ডায়মন্ডহারবার ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে সমিতি এডুকেশন অফিসার হিসাবে কর্মরতা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কলকাতার বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশের দাবি, ‘এসআইআরের চাপে নিজের বাড়িতে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই মহিলা অফিসার।’ যদিও এনিয়ে সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি কলকাতা পুলিশ। তবে তাঁর বাড়ি বা ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট মেলেনি। ঘটনাটি ঘটেছে ২৯ মার্চ রাত ১টা নাগাদ বাঁশদ্রোণী থানার গড়িয়া বোসপাড়া এলাকায়।
জানা গিয়েছে, ওই রাতে ১৬ বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই ঘুমাতে যান মালবিকাদেবী। রাত ১টা নাগাদ বিষ খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বারবার বমি করতে থাকেন। তখন ওই বাড়িতেই অন্য ঘরে ঘুমিয়েছিলেন মালবিকাদেবীর স্বামী অমলেশ ভট্টাচার্য। বিষয়টি জানার পর তড়িঘড়ি তিনি মালবিকাদেবীকে বোড়ালের নতুনহাট এলাকার এক নার্সিংহোমে ভরতি করেন। সোমবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ইএম বাইপাসের ধারে এক নামী বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মালবিকাদেবীর। কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, পরিবারের সদস্যরা তদন্তকারী পুলিশ অফিসারকে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে এসআইআরের চাপে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন তিনি। তীব্র হতাশা গ্রাস করেছিল তাঁকে। পরিবারের দাবি, এসআইআরের চাপ সামাল দিতে না পেরে নিজের বাড়িতেই বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন এই মহিলা অফিসার।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ জানতে পেরেছে, রাতে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে তিনি প্রায় ২০০ মিলি লিটার আগাছানাশক তরল রসায়নিক খেয়ে ফেলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই রাসায়নিকের খালি শিশি বাজেয়াপ্ত করেছে। যা তদন্তের স্বার্থে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বাঁশদ্রোণী থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে বাঁশদ্রোণী থানা। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মালবিকাদেবীর দেহটি ময়নাতদন্তের পাশাপাশি সুরতহালের জন্য পাঠানো হয়েছে। আপাতত সব দিক খোলা রেখেই তদন্ত চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। মালবিকাদেবীর মৃত্যুতে ডায়মন্ডহারবার ১ নম্বর বিডিও অফিসে সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।