নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লুডোর বোর্ডে সাপ-মইয়ের খেলাটি কোনোদিন খেলেনি এমন মানুষ কমই আছে। ছোটবেলা থেকে এই খেলা বাঙালির মগজে পাকাপাকি ঢুকে। সেই খেলাই এবার ভোট প্রচারের কেন্দ্রে নিয়ে চলে এসেছে তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাইন্ড গেম সেট করবে তৃণমূলের এই অভিনব প্রচার। তা দস্তুরমতো প্রভাব ফেলবে ভোটারদের মনে।
তৃণমূলের তৈরি সাপ-লুডোর বোর্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি হচ্ছে উন্নয়নের সিঁড়ি। সাপের মুখে আছেন কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি নেতারা এবং বঞ্চনার কথা। সাধারণ লুডোর মতো সাপ-মইয়ের এই বোর্ডেও ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত ঘর। সিঁড়ির নীচের অংশে বাংলার বিভিন্ন উন্নয়মমূলক প্রকল্পের নাম। সিঁড়ি ধরে উপরে উঠলে উপভোক্তাদের ছবি। অন্যদিকে দেখানো, ভুল করে সাপের মুখে পড়লেই সোজা পতন। নেমে পড়তে হবে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার সামনে।
লুডোর বোর্ডজুড়ে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘বাংলার বাড়ি’ সহ একাধিক প্রকল্পের নাম। ‘বাংলার বাড়ি’ থেকে সোজা উপরে ওঠার সুযোগ। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’— সবথেকে বড়ো সিঁড়ি। ১২ নম্বর ঘর থেকে শুরু। সে মইয়ে উঠে পড়তে পারলে এক লাফে পৌঁছে যাওয়া যাবে ৯৬ নম্বর ঘরে। অর্থাৎ মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা যে বড়ো ভরসা তা বোঝানো হয়েছে মই বা সিঁড়ির মাধ্যমে। বোর্ডের ১০০ অর্থাৎ শেষতম ঘরটি ‘জয় বাংলা’ হিসেবে চিহ্নিত। সেই ঘরে পৌঁছতে পেরতে হবে দু’মুখো সাপ। সে সাপের একটি মুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর, অন্য মুখটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। মোদির ঘরে লেখা, ‘মাছ মাংস বন্ধ’। অমিতের ঘরে, ‘মাতৃভাষা বন্ধ’। দিলীপ ঘোষের মুখ আছে ৮০ নম্বর ঘরে। সেখানে পড়লে সোজা পতন। পড়তে হবে ৪০ নম্বর ঘরে। দিলীপের মুখের পাশে লেখা, ‘ভোটাধিকার বাতিল’। ছকে থাকা শুভেন্দু অধিকারীর মুখে পড়লে ৮৭ থেকে নামতে হবে ৫২ নম্বর ঘরে। তাঁর মুখে লেখা, ‘উন্নয়ন বন্ধ’। এই সব নিয়ে হল লুডোর বোর্ড। বোর্ডের মধ্যেই দেওয়া ঘুঁটি এবং ছক্কা। ডান দিকে কীভাবে ঘুঁটি বানাতে হবে তা লেখা রয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই এই সাপ-লুডোরঅনলাইন গেমটি সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রচারের মাঝে বাংলায় বিশেষ করে গ্রামেগঞ্জে লুডোর এই বোর্ড বিলি করার পরিকল্পনা আছে তৃণমূলের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লুডো অনেকটাই মাইন্ড গেম। এই বোর্ড ঘরে ঘরে পৌঁছে গেলে বাড়ির প্রবীণরা, মহিলা বা বাচ্চারা এবং পুরুষরাও অবসর টাইমে খেলবেন। খেলতে খেলতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজগুলি মনে গেঁথে যাবে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিষয় গেড়ে বসবে মানুষের মনে।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ঝড় তুলেছিল তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ স্লোগান। তা এখনও ভাইরাল। এবার খেলা হবে’র সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সাপলুডো। একুশে নির্বাচনে প্রচারের মাঝে মমতা পায়ে চোট পেয়েছিলেন। তারপর স্লোগান উঠেছিল, ‘ভাঙা পায়েই খেলা হবে।’ ছাব্বিশের ভোটেও খেলা হচ্ছে। লুডোর বোর্ড দিয়ে মাইন্ড গেম খেলা শুরু করতে চলেছে তৃণমূল।