• জনগণের মন বুঝতে আলাদা সমীক্ষা! নির্বাচনি প্রচারে ত্রিস্তর কৌশল টিম তৃণমূলের
    বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • অর্ক দে, কলকাতা: কয়েকদিন আগে দক্ষিণ কলকাতায় এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রথম সারির নেতা বলছিলেন, ‘এক-একটি বাড়িতে তিন-চারবার করে যেতে হবে। যেন বাড়ির লোক অতিষ্ঠ হয়ে বলে, আর আসতে হবে না! আমরা আপনাদেরই ভোট দেব।’ হাসিঠাট্টার ছলে তিনি ওই মন্তব্য করলেও তা যে নিছক রসিকতা ছিল না, স্পষ্ট হল কয়েকদিনের মধ্যেই। জানা গিয়েছে, এমন স্ট্র্যাটেজি নিয়েই এবারের ভোট ময়দানে ঝাঁপাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। প্রচারের ফাঁকে বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করেছে জোড়াফুল শিবিরের ছাত্র-যুব এবং মহিলা কর্মীদের টিম। তাঁরা দলের হয়ে প্রচার করছেন। লিফলেট বিলি করছেন। সেই সঙ্গে খোঁজ নিচ্ছেন গৃহস্থের ভালোমন্দের। বোঝার চেষ্টা করছেন তাঁদের চাহিদা, দাবিদাওয়াগুলি। যাবতীয় অভাব-অভিযোগ নথিভুক্ত করা হচ্ছে। অর্থাৎ, জনমন বুঝতে কার্যত একটি সমীক্ষা সেরে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল। একদিকে প্রার্থী, অন্যদিকে ছাত্র-যুব ও মহিলাদের টিম বিধানসভা ধরে ধরে প্রত্যেক বাড়িতে পৌঁছবে। এভাবে একই বাড়িতে অন্তত তিনবার পৌঁছানোর ‘ত্রিস্তর’ প্রচার কৌশল নিয়ে এগচ্ছে জোড়াফুল শিবির। 

    দলীয় সূত্রে খবর, বিধানসভা ভিত্তিক ছাত্র-যুব এবং মহিলাদের টিম তৈরি হচ্ছে। ছাপা হয়েছে বিশেষ প্রচারপত্রও। যুবসাথী, কর্মশ্রী থেকে শুরু করে ছাত্র ও যুবদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পগুলি প্রচার করবে তারা। মত বিনিময় করা হবে গৃহস্থের সঙ্গে। দাবিদাওয়া নথিভুক্ত হবে। একইভাবে মহিলারা আলাদা টিম করে পৌঁছে যাবে দোরে দোরে। তারা মূলত মহিলা ভোটারের মন বোঝার চেষ্টা করবে। নেবে ‘হাঁড়ির খবর’। তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক এই গোটা কর্মসূচিটি সাজিয়েছে বলে খবর। 

    প্রার্থী তো বাড়ি বাড়ি প্রচারে যাচ্ছেনই। পাশাপাশি আইপ্যাকের তৈরি করা এই প্রচার কৌশল নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে যাবে তৃণমূলের ছাত্র ও যুবদের টিম। তারপর সেই বাড়িতে যাবেন মহিলারা। অর্থাৎ একই বাড়িতে তিনবার যাবে তৃণমূল। প্রতি বিধানসভা ধরে তৈরি হয়েছে ১৫-২০ জন করে ছাত্র-যুব ও মহিলাদের টিম। দলের উত্তর কলকাতার এক নেতার কথায়, ‘ছাত্র-যুব একসঙ্গে কাজ করবে। মহিলারা আলাদা। প্রতি টিমের মাথায় একজন সুপারভাইজার রাখা হচ্ছে। তাঁরা নিয়মমাফিক রিপোর্ট নেবেন। সঙ্গে থাকবে বিধানসভাভিত্তিক একজন আইপ্যাকের পর্যবেক্ষক।’ 

    সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় এই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। কলকাতার কয়েকটি ওয়ার্ডেও কাউন্সিলাররা নিজেদের মতো করে প্রচার সাজিয়ে নিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই ‘ত্রিফলা প্রচার’ আসলে মানুষের মনে জোড়াফুলকে গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা। এর ফলে একদিকে যেমন জনমানসের মতিগতি অনেকটা টের পাওয়া যাবে, তেমনই উঠে আসবে মানুষের চাহিদা, সমস্যা সংক্রান্ত বিপুল তথ্য। ভোটের ‘হাওয়া’ কোনদিকে, তা যেমন বোঝা যাবে, দ্রুত কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন হলে সেই মতো ব্যবস্থা নিতে পারবে দল। 
  • Link to this news (বর্তমান)