সংবাদদাতা, বারুইপুর: মন্দিরবাজার বিধানসভা এলাকায় বেহাল পরিবহণ ব্যবস্থা। নেই কোনো সরকারি বাস। ভিড় ট্রেন নতুবা বেসরকারি বাসই ভরসা এলাকাবাসীর। এই সমস্যাকেই এবার ভোটে ইস্যু করছে বিরোধী বিজেপি ও আইএসএফ। পাশাপাশি তাঁরা সরব হয়েছে মন্দিরবাজারের নাইয়ারাট গ্রামীণ হাসপাতালের পরিষেবা নিয়েও। বিরোধীরা বলেন, বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য ও পরিবহণ সমস্যায় জর্জরিত মন্দিরবাজার। হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা বেহাল। আর রাস্তায় চলে না সরকারি বাস। যদিও কেচারকুড় পঞ্চায়েত এলাকায় নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও নতুন সরকারি বাস চালু করার প্রস্তাব আগেই জমা দিয়েছে শাসকদল। এগুলোকেই আনা হচ্ছে প্রচারে।
মন্দিরবাজারে পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কলকাতা যেতে মানুষজনকে অটোয় চেপে ডায়মন্ডহারবার শাখায় সংগ্রামপুর স্টেশনে ছুটতে হয়। নতুবা অটো-টোটো করে মানুষ যায় লক্ষীকান্তপুর বা মথুরাপুর স্টেশনে। তারপরে ভিড় ট্রেনে গাদাগদি করে যেতে হয়। ডায়মন্ডহারবার থেকে দুটি বেসরকারি বাস চলে মন্দিরবাজার পর্যন্ত। কিন্তু কোনো সরকারি বাস নেই। পাশাপাশি, নাইয়ারাট গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল পরিষেবা নিয়েও সরব বিরোধীরা।
এই নিয়ে বিজেপি প্রার্থী মল্লিকা পাইক বলেন, হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের শুধু রেফার করে দেওয়া হয়। কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। কোনো অপারেশন থিয়েটার নেই। এর সঙ্গে খুব খারাপ অবস্থা যাতায়াতের। শুধু অটো-টোটোই ভরসা। সন্ধ্যার পরে বেসরকারি বাসও মেলে না। এটা মানুষও বলছে আমাদের।
একই কথা আইএসএফ প্রার্থী অশোককুমার গায়েনের। তিনি বলেন, এতো দিনের বিধায়ক একটা সরকারি বাস পরিষেবা চালু করতে পারলেন না। হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে মানুষকে ফিরে আসতে হয়। মানুষ এসব নিয়ে বিরক্ত। যদিও পাল্টা তৃণমূল প্রার্থী জয়দেব হালদার বলেন, পরিবহণ সমস্যার জন্য বিজয়গঞ্জ থেকে একটি সরকারি বাস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে অনেকদিন আগেই। ভোটের পরেই কাজ হবে। আর হাসপাতালে পরিষেবা ভালোই বলে আরও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন। মিথ্যা প্রচারে মানুষ বিভ্রান্ত হবে না। গ্রামীণ হাসপাতালের আরও ভালো পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও তৈরি। প্রচারে বিজেপি প্রার্থী মল্লিকা পাইক।