সংবাদদাতা, বনগাঁ: দীর্ঘ টালবাহানার পর মঙ্গলবার বাগদার প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুরকে এবারে প্রার্থী করেছে দল। প্রার্থী ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি-কর্মী সমর্থক ও বাগদার সাধারণ মানুষ। এদিন বিকালে প্রচারে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েন বাগদার বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর। বিজেপি নেতা-কর্মীদের দাবি, দলীয় নেতৃত্ব কথা দিয়েছিল এবার স্থানীয় প্রার্থী দেবে। কথা দিয়েও শেষ পর্যন্ত কথা রাখল না। আমাদেরকে ‘এপ্রিল ফুল’ করল।
মঙ্গলবার সকালে চতুর্থ তালিকায় সোমা ঠাকুরকে বাগদার প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে বিজেপি। এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। কোনোমতে তাঁরা বহিরাগত প্রার্থীকে মানবেন না বলে জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন তাঁরা। এদিন বিকেলে বাগদার হেলেঞ্চাতে আসেন বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর। স্থানীয় হরি মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন তিনি। হেলেঞ্চা বাজারে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারে বেরিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েন। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে গেলে তিনি প্রার্থীকে দেখে রেগে যান। সেই সময় বিজেপি জেলা সভাপতি পরিস্থিতি সামাল দেন। যদিও পরবর্তীতে ওই ব্যবসায়ী জানান দলের স্বার্থে তিনি দলের হয়ে কাজ করবেন।
এদিন বিকেলে প্রার্থী প্রচারে বের হতেই চায়ের ঠেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা গুঞ্জন শোনা যায়। কেউ বলেন, আজও ঠাকুর বাড়ি থেকে বের হতে পরলাম না আমরা। কেউ রেগে দাবি করেন, ঠাকুর বাড়ির প্রতিনিধিকে যদি ভোট দিতেই হয় তাহলে তৃণমূল প্রার্থীকে দেব। তিনি ওই বাড়ির মেয়ে। বিজেপি প্রার্থী ঠাকুর বাড়ির বউমা। ক্ষোভ প্রসঙ্গে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, প্রার্থী নিয়ে দল সিদ্ধান্ত নেয়। কিছু মানুষের ক্ষোভ থাকতে পারে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। বাগদার মানুষ আমাদেরকেই সমর্থন করবে। তৃণমূল জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, বিজেপি গোষ্ঠী কোন্দলে জেরবার একটি দল। প্রার্থী ঘোষণা হতেই তা প্রকাশ্যে এসেছে। প্রচারে সোমা ঠাকুর।-নিজস্ব চিত্র