• ঋণ পরিশোধে ১০৬ গ্রাম নকল সোনা দিয়ে প্রতারণা! গ্রেপ্তার ২
    বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘স্বর্ণবন্ধকী সংস্থায় ঋণ বকেয়া রয়েছে। পরিশোধ করতে পারছি না।’ এমনই দাবি করেছিল দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। তারা এও বলেছিল, সংস্থায় গচ্ছিত আছে ১০৬.৬ গ্রাম সোনা। বকেয়া টাকার পরিমাণ মাত্র ৭ লক্ষ ২৪ হাজার। ওই টাকা দিয়ে ঋণ মুক্ত করলে তারা গচ্ছিত সোনা ছাড়িয়ে এনে দিয়ে দেবে। সেই ফাঁদে পা দিয়ে রাজারহাটের এক ব্যক্তি ৭ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা দিয়েও ফেলেছিলেন। কথা মতো তাঁকে সোনা দিয়েও যায় ওই দুই ব্যক্তি। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় পরীক্ষা করে মাথায় হাত রাজারহাটের ওই ব্যক্তির। কারণ, ওই সোনা নকল! এমনই অভিনব প্রতারণার ঘটনার তদন্তে নেমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করল বাগুইআটি থানার পুলিশ। সোমবার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সুখেন বর্মণ এবং ভাস্কর মণ্ডল।

    সুখেনের আসল বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি এলাকায়। বর্তমানে সে দমদমে ভাড়ায় থাকত। ভাস্করের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালি কোস্টাল থানা এলাকায়। সোমবার রাজারহাটের এক ব্যক্তি বাগুইআটি থানার দ্বারস্থ হন। তিনি পুলিশকে বলেন, ‘আমি ঋণ সেটেলমেন্টের কাজ করতে গিয়েছিলাম। সুখেন বর্মণ এবং ভাস্কর মণ্ডলের বকেয়া ঋণ শোধ করে দিয়েছি। বাগুইআটির একটি স্বর্ণবন্ধকী সংস্থায় ঋণ চলছিল ওদের। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ওই স্বর্ণবন্ধকী সংস্থায় সেই টাকা দেওয়া হয়। তারপর ওই দু’জন গচ্ছিত সোনা বের করে আমার হাতে দেয়। যে কোনো স্বর্ণবন্ধকী সংস্থা সোনা পরীক্ষা করেই জমা নেয়। তাই অবিশ্বাস হয়নি। কিন্তু পরে সন্দেহ হওয়ায় তা পরীক্ষা করাই। তখন জানতে পারি, এগুলি সবই নকল সোনা!’ অভিযোগ দায়ের হওয়া মাত্র পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা এর আগে এই ধরনের প্রতারণা ঘটিয়েছে বলে অনুমান। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত থাকতে পারে। সরানো টাকা এবং অন্যান্য ডিজিটাল নথির উপর ভিত্তি করে তাদের খোঁজ চলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)