এই সময়, বড়জোড়া: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে বড়জোড়া বাজার থেকে মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করলেন বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী বিবেকানন্দ কেওড়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা, আদর্শের প্রতি আস্থা এবং 'হাত' চিহ্নকে আবার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার- এই তিনকে সঙ্গী করেই এ বার ভোটযুদ্ধে নেমেছেন তিনি।
গত দুই দশকে বিভিন্ন সময়ে জোট রাজনীতির কারণে কংগ্রেসের নিজস্ব পরিচয় অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন বিবেকানন্দ। তাঁর কথায়, 'দীর্ঘদিন ধরে জোট করতে করতে আমাদের হাত চিহ্নটাই মানুষের চোখের আড়ালে চলে যাচ্ছিল। এ বার আমাদের লক্ষ্য- প্রতিটি বুথে, প্রতিটি ঘরে কংগ্রেসের প্রতীক পৌঁছে দেওয়া।'
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সমর্থনেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তিনি জানান। কেন ভোট দেবেন মানুষ? বিবেকানন্দর দাবি, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও গণতন্ত্র হরণের অভিযোগে জর্জরিত। পাশাপাশি কেন্দ্রে থাকা বিজেপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, 'মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছে, একটা সুস্থ, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি।'
বড়জোড়া কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভোট শতাংশ নিয়ে স্পষ্ট হিসেব না দিলেও, পঞ্চায়েত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন, 'ভোট হয়েছে, কিন্তু লুটও হয়েছে। তাই প্রকৃত সমর্থন বোঝা কঠিন।' তবুও তাঁর আত্মবিশ্বাস, কংগ্রেস উল্লেখযোগ্য ভোট পাবে এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসবে।
এক বিবেকানন্দের শিকড় শ্রমিক পরিবারে। বাবা হীরণ্ময় কেওড়া কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সমাজ ও রাজনীতির প্রতি আগ্রহ ছিল বিবেকানন্দর। জানালেন, বড়জোড়া হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা শুরু করে খ্রিস্টান কলেজে বিজ্ঞান নিয়ে পড়লেও রাজনৈতিক কারণে তা শেষ করতে পারেননি। ২০০৮-এ তৃণমূলের হয়ে বাঁকুড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হন। তখন বামফ্রন্ট বিরোধী জোট রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তৃণমূলকে শক্তিশালী বিকল্প মনে হয়েছিল তাঁর। তবে ২০০৯-এ তিনি কংগ্রেসে ফিরে আসেন এবং ধীরে ধীরে দলের সক্রিয় কর্মী থেকে প্রার্থী হয়ে ওঠেন। রাজনীতির ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা, যোগব্যায়াম ও খেলাধুলায় আগ্রহী বিবেকানন্দ। সাঁতার তাঁর অন্যতম শখ। ক্রিকেট তাঁর প্রিয় খেলা, আর দেশাত্মবোধক গান 'সারে জাহাঁ সে আচ্ছা' তাঁর প্রিয়। নিরামিষ খাবার পছন্দ করেন, অবসরে দক্ষিণী সিনেমা দেখেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকেন।