SIR-এ ‘বিচারাধীন’ প্রার্থীদের নিষ্পত্তির কাজ প্রায় শেষের পথে। এর পরেও যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের নথি-সহ জেলার ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আবেদন করতে হবে। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার জন্য খরচ-খরচা দেওয়া হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বীরভূম জেলার নানুরের জনসভা থেকে মমতা বলেন, ‘আমি SIR নিয়ে কেস করেছিলাম। এক কোটি ২০ লক্ষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। ২২ লক্ষ লোকের নাম তোলা গিয়েছে। ১৮ লক্ষ নাম বাদ হয়েছে। সবাইকে ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে। খরচ-খরচা আমরা দেব।’
বুধবারই সুপ্রিম কোর্টে SIR সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বুধবারেই মধ্যেই ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রাক্তন বিচারপতিদের ট্রেনিং দিতে হবে। বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হয়ে যাবে। অন্য দিকে, গত দু’দিনে রাজ্যের CEO অফিসে ফর্ম ৬ (ভোটারদের নাম তোলার জন্য অর্থাৎ সংযোজন করার জন্য এই ফর্ম ব্যবহৃত হয়।) জমা দেওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই বিষয়টিও এ দিন সুপ্রিম কোর্টে জানান রাজ্যের আইনজীবী। এই প্রসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘এরা বাইরের নাম জমা করছিল। ভিন রাজ্যের লোকের নাম ঢোকাচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে, এই সব হবে না। আগে যারা বিচারাধীন, তাঁদের কেস ট্রাইব্যুনালে যাবে। যাঁর যা ডকুমেন্ট আছে, আপনার নিয়ে যাবেন। ভয় পাবেন না।’
এ দিন বীরভূমের নানুরের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝির সমর্থনে আল-আমীন মডেল স্কুল পাপুড়ি মাঠে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। SIR-এর গোটা পর্বে সাধারণ মানুষের পাশে তৃণমূল কর্মীরা বিশেষত বিএলএ-১ এবং বিএলএ-২ কর্মীরা ছিলেন বলে দাবি করেন মমতা। এ দিনের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘যখন সব মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন আমাদের বিএলএ-১ এবং বিএলএ-২ কর্মীরা সাহায্য করেছেন। কালকেও ডায়মন্ড হারবারে একজন ERO মারা গিয়েছেন। কতজন BLO মারা গিয়েছেন। SIR-এর জন্য ২২৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’
উল্লেখ্য, নানুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন বিধানচন্দ্র মাঝি। সেই বার বিজেপির প্রার্থী ছিলেন তারকেশ্বর সাহা ও বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শ্যামলী প্রধান। প্রায় সাত হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। এ বার বিজেপির প্রার্থী খোকন দাস ও সিপিএম প্রার্থী শ্যামলী প্রধান।