পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার জেরে উদ্ভূত সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করতে বুধবারই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইরান বনাম আমেরিকা-ইজ়রায়েল যুদ্ধের জেরে দেশে যে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে, তা গোপন করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সেই পরিস্থিতি কি ধীরে ধীরে আরও উদ্বেগজনক হয়েছে? এই জরুরি বৈঠক তলবে প্রকারান্তরে তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। নিরাপত্তা কমিটির মাথায় রয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়াও রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে দেশে তেলের জোগানে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় নানা শিল্পক্ষেত্রই বিপাকে পড়েছে। তা নজরে রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের মন্ত্রীদেরও ডাকা হয়েছে বৈঠকে। তার মধ্যে রয়েছে কৃষি, বাণিজ্য, পেট্রোলিয়াম, বিদ্যুৎ, খাদ্য এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।
গত ২২ মার্চেও মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকের পর এক সরকারি আধিকারিক সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, 'পশ্চিম এশিয়ায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আঁচ গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতেই পড়েছে। স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব দেখা যাবে। ভারত গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। কী পদক্ষেপ করলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা এড়ানো যাবে, সেই চেষ্টাই চলছে।'
পরে মোদীও জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের প্রভাব মোকাবিলায় জ্বালানি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে কৌশল নির্ধারণ করতে সরকার সাতটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী গঠন করেছে। কৃষিক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গত এক দশকে দেশ জুড়ে যে ইউরিয়া সার উৎপাদনগুলি নির্মাণ করা হয়েছে তা অনেকাংশেই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে কার্যকরী হবে।
সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সক্রিয় হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, 'রাজ্য সরকারগুলিকে কালোবাজারি ও মজুতদারি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এই সঙ্কটের প্রতিটি দিক—তা স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যা-ই হোক না কেন— মোকাবিলায় সরকার একটি সুসংহত কৌশল নিয়ে কাজ করছে।' জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের প্রচেষ্টা নিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, গত ১১ বছরে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত তৈরি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ৬৫ লাখ মেট্রিক টন সক্ষমতা তৈরির কাজও চলছে।