কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) পরিকাঠামোগত হালহকিকত কী?— সংসদে তৃণমূল সাংসদ মালা রায় লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন। কলকাতা মেট্রোর স্বাস্থ্য অর্থাৎ পিলার, প্ল্যাটফর্মের ছাদ, রেলের ট্র্যাকের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায় (Mala Roy)। তারই জবাব দিল রেলমন্ত্রক। আর সেই জবাবেই উঠে এল, কলকাতা মেট্রোর একাধিক নতুন প্রকল্প বা প্রস্তাবিত প্রকল্পের এই মুহূর্তে কী হাল।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ৪টি মেট্রো করিডরে প্রায় ৫২ কিলোমিটার পথের কাজ হবে। তবে এর মধ্যে ২০ কিলোমিটারের কাজ থমকে রয়েছে জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি শিফ্টিংয়ের ইস্যুর জন্য। রাজ্য সরকারকে যার সহযোগিতা করতে হবে। বাকি মেট্রো অংশে কাজ চললেও, বিভিন্ন কারণে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কী সেই সমস্যা, রুট ধরে ধরে তারও উল্লেখ করেছেন রেলমন্ত্রী।
রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, নোয়াপাড়া থেকে জয়হিন্দ এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ৬.৭৭ কিলোমিটারে পরিষেবা চালু হয়ে গেলেও জয়হিন্দ এয়ারপোর্ট থেকে মাইকেল নগরের কাজ চলছে। তবে নিউ ব্যারাকপুর থেকে বারাসত পর্যন্ত ৭.৫ কিলোমিটারের কাজ আটকে জমি অধিগ্রহণ ও উচ্ছেদ সংক্রান্ত ইস্যুর কারণে। এখনও রাজ্য সরকার এই সমস্যার সমাধান করেনি বলেই মালা রায়ের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব।
জোকা-মাঝেরহাটের পরিষেবা চালু হয়ে গেলেও মাঝেরহাট থেকে এসপ্ল্যানেডের কাজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা হচ্ছে। খিদিরপুর মেট্রো স্টেশনের জন্য ইউটিলিটি শিফ্টিং ও রোড ট্র্যাফিক ডাইভারশনের সমস্যা রয়েছে। রেলমন্ত্রী জানান, কলকাতা আর্মড পুলিশের একটি জমি এখনও মেলেনি। ২০২০ সালে সেই জমি চাওয়া হয়েছিল রাজ্যের কাছে।
সমস্যা রয়েছে বিসি রায় মার্কেটের কাছে জমি নিয়েও। এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন তৈরির জন্য এই জায়গা দরকার। সেখানেও জট হয়ে রয়েছে। যদিও এই জমি ডিফেন্সের। অনেকগুলি দোকান রয়েছে এখানে। সেগুলির শিফ্টিং সংক্রান্ত সমস্যা থেকে যাচ্ছে। রাজ্য সরকারকে শিফ্টিংয়ের ব্যাপারে বলা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে এই কাজ ঝুলে আছে।
নিউ গড়িয়া-বেলেঘাটায় ৯.৮ কিলোমিটারের কাজ হয়ে গিয়েছে। বেলেঘাটা থেকে দমদম এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বকেয়া কাজ চলছে। সেখানেও বেশ কিছু সমস্যার উল্লেখ করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের উল্লেখ রয়েছে, যা বেলেঘাটা থেকে গৌর কিশোর ঘোষ স্টেশনের মাঝে অবস্থিত। টেম্পোরির ট্র্যাফিক ডাইভারশনের দরকার। ৩টে রাতের কাজ। প্রতি রাতে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে এই কাজে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এখনও অবধি একাধিক মিটিং হয়েছে। ১২ মাস হয়ে গিয়েছে NOC-র জন্য এখনও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বরানগর থেকে দক্ষিণেশ্বর, ২ কিলোমিটার পথে পরিষেবা শুরু হয়ে গিয়েছে। বরানগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত ১২.৫ কিলোমিটারের কাজ বাকি। রেলমন্ত্রী জানান, বিটি রোড বরাবর ব্যারাকপুর পর্যন্ত মূল অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে ২০১১ সালে মেট্রো রেলওয়ে, RVNL ও কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের MoU সই হয়েছে। MoU অনুযায়ী, বিদ্যমান পাইপলাইনটি নতুন ৬৪-ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন দিয়ে প্রতিস্থাপন করার কথা ছিল রাজ্য সরকারের সহযোগিতায়। ২০১২ সালে এই পাইপলাইন স্থানান্তরের কাজ শেষ হয়। তবে এখনও রাজ্য সরকারের NOC মেলেনি।