আলুচাষিরা দাম কবে থেকে পেতে পারেন? খোঁজ নিল bangla.aajtak.in
আজ তক | ০১ এপ্রিল ২০২৬
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতি এখন 'আলুময়'। হুগলি থেকে বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলায় জেলায় আলু চাষিরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। অভিযোগ, আলু চাষ করে তাঁরা লাভের মুখ তো দেখতেই পাচ্ছেন না। উল্টে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
চাষিরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন?
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার এক আলু চাষি সুমন মণ্ডল জানিয়েছিলেন, জ্যোতি আলু বিক্রি হয়েছে কুইন্টাল প্রতি ২০০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজি আলু বিক্রি করে চাষি পেয়েছেন মাত্র ২ টাকা। অন্যদিকে, K22 আলু মাঠ থেকে বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ টাকা।
তিনি দাবি করেছিলেন, প্রতি বিঘায় আলু চাষ করতে কৃষকদের খরচ হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু তারা বিঘা প্রতি আলু বিক্রি করে ২৩-২৪ হাজার টাকার বেশি ঘরে তুলতে পারছে না। ফলে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে আলু চাষিদের।
আলু চাষিদের দুর্দশা দূর করতে উদ্যোগী রাজ্য
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার আলু চাষিদের এই দুর্দশা দেশের সংবাদমাধ্যমগুলির শিরোনাম হয়ে উঠছিল। তারই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
কোলে মার্কেট ভেন্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও রাজ্য সরকারের টাস্ক ফোর্স টিমের সদস্য কমল দে bengali.aajtak.in-কে জানান, "আলু চাষিদের দুর্দশা দূর করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের আলু চাষিদের সরাসরি আলু ভিনরাজ্যে বিক্রির অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন। কেউ চাইলে নিজেরাই অন্য রাজে আলু বিক্রি করতে পারেন। আবার কেউ চাইলে রাজ্য সরকারের তরফে টালু ট্রেন পরিষেবার মাধ্যমেও আলু রফতানি করতে পারেন।"
তিনি জানান, "কয়েকদিন আগেই তারকেশ্বর থেকে ট্রেনে করে আলু অসম ও ত্রিপুরায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন করে আরামবাগ, বর্ধমান, চন্দ্রকোনা থেকেও নিয়মিত ভাবে আলু বোঝাই ব়্যাক ভিন রাজ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।"
কত দিনের মধ্যে আলু চাষিরা স্বস্তির দাম পাবেন?
অঙ্কের হিসাব বলছে, আলু চাষিরা বিঘা প্রতি ৫০, হাজার টাকা পেলে তাঁরা বিঘায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ করতে পারেন। কিন্তু এখন ২ টাকা-৩ টাকা কেজি আলু বেচে চাষি পাচ্ছেন মাত্র ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ আলুর দাম কেজি প্রতি ৬-৭ টাকা হিসেবে চাষিরা পেলে তাঁদের লক্ষ্মীলাভ হবে।
এ প্রসঙ্গে কমল দে বলেন, "আজ বাংলা ছাড়াও, বিহার, উত্তরপ্রদেশেও আলু চাষিদের অবস্থা বেশ খারাপ। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ট্রেনে করে আলু বাইরে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে আশা করা হচ্ছে আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই আলুর দাম ৬-৭ টাকা পেতে পারেন আলু চাষিরা। সেক্ষেত্রে তাঁদের সমস্যার সমাধান হবে।"
দাম বেশি পাওয়ার আশায় মাঠে আলু ফেলে রেখেছেন চাষিরা
আরামবাগে দেখা গিয়েছে অন্য চিত্র। এই মহাকুমার পশ্চিমপাড়া, কেশবপুর, কেলেপাড়া, তালপুর-সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে চাষিরা আপাতত আলু চাষ করে মাঠেই ফেলে রেখেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমানে আলুর দাম অনেক কম রয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে আলুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। তাঁরা আশা করছেন বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহ ও চৈত্র মাসের শেষে এই দাম বস্তা প্রতি ৫০০ টাকা হবে। তখনই আলু বেচবেন তাঁরা।