• মার্চ ছিল 'শীতল', এপ্রিল থেকে জুন তীব্র গরম অপেক্ষা করছে, কত ডিগ্রি চড়তে পারে?
    আজ তক | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • চৈত্র মাসেও কলকাতায় গরমের তীব্রতা সেভাবে অনুভূত হল না। বরং ঝড়-বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের দাপটে এবারের মার্চ মাস শহরবাসীর কাছে ‘শীতল’ হিসেবেই থেকে গেল। তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছেন, এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী নাও হতে পারে। এপ্রিল থেকে তাপমাত্রা ফের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে রয়েছে এল নিনোর আশঙ্কাও।

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, এবারের মার্চে কলকাতার গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি কম। সাধারণত মার্চে শহরের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে ৩৩.৭ ডিগ্রি। মাসের অধিকাংশ দিনই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে ছিল। এর প্রধান কারণ হিসেবে নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশকেই দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদরা।

    বিশেষ করে ২৩ মার্চের প্রবল ঝড়বৃষ্টির পর শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ২৩.২ ডিগ্রিতে, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১১ ডিগ্রি কম। পরের দিনও তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার জেরেও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    তবে উল্টোদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেশিরভাগ দিনই স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল। মার্চে সাধারণত গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে ২২.৯ ডিগ্রি, কিন্তু এ বছর তা বেশিরভাগ দিন ২৩ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। মেঘলা আকাশ ও বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় রাতের তাপ সহজে বেরোতে পারেনি বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    এদিকে, কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, এপ্রিল থেকে জুন মাসে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গেও গরমের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে তাপপ্রবাহের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    এর পাশাপাশি সামনে আসছে এল নিনো পরিস্থিতি। জুন মাস পর্যন্ত ‘নিউট্রাল’ অবস্থা থাকলেও, তার পর প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এল নিনো তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে বর্ষায় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এখনও বজ্রগর্ভ মেঘ ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে আবহাওয়া শুষ্ক হবে বলেই পূর্বাভাস।

    সব মিলিয়ে, মার্চ মাসে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সামনে যে গরমের কঠিন সময় অপেক্ষা করছে, সে ব্যাপারে আগাম সতর্ক করছে আবহাওয়া দফতর।

     
  • Link to this news (আজ তক)