• ২১-এর ঘটনা মনে করিয়ে পালাবদলের ডাক, শীতলকুচির জনসভায় ভিড় দেখে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক
    এই সময় | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০২১ সালের ১০ এপ্রিল রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থেকেছিল কোচবিহার জেলার শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্র। ওই নির্বাচনে এই আসন জিতেছিল বিজেপি। পরিবর্তনের ডাক দিয়ে বুধবার শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতি প্লে গ্রাউন্ডে সভা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এ দিনের সভায় জনসমাগম দেখে অভিষেকের বার্তা, ‘এই মানুষ যদি লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন, আগামী ১০ বছর কোচবিহারের কোনও বুথে বিজেপির এজেন্টকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ এ দিন শীতলকুচির প্রার্থী হরিহর দাস ছাড়াও মেখলিগঞ্জের প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী, সিতাইয়ের প্রার্থী সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া, দিনহাটার প্রার্থী উদয়ন গুহ, কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা আসনের প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক উপস্থিত ছিলেন।

    এ দিন জনসভায় বক্তব্যের শুরুতেই শীতলকুচির ঘটনার কথা মনে করান অভিষেক। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, বিজেপি সাগরেদরা বন্দুকের নল দিয়ে মানুষের রক্ত হাতে মেখে চার জন নিরীহ ভোটারকে দিনের আলোয় গুলি করে দখল করেছিল। সেই দৃশ্য আজও কেউ আমরা ভুলিনি।’ উল্লেখ্য, ২১-এর ১০ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোটে কোচবিহারের শীতলকুচি বিধানসভার জোড়পাটকির আমতলি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের বুথের সামনে সিআইএসএফের গুলিতে নিহত হন গ্রামের চার যুবক হামিদুল মিয়াঁ, মনিরুজ্জামান মিয়াঁ, সামিউল হক এবং নুর আলম হোসেন।

    সভার ভিড় দেখে অভিষেক বলেন, ‘গত কয়েক বছর অনেক সভা-সমিতি করেছি। তবে আজকের যে ভালোবাসা, স্নেহ দিয়ে আপনারা আমাদের বরণ করেছেন, তা দেখে আমি শীতলকুচির মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। যতদিন বেঁচে থাকব, আমি চেষ্টা করব এই ঋণ উন্নয়নের মাধ্যমে পরিশোধ করার।’ ২১-এর ঘটনা মনে করিয়ে অভিষেক দাবি করেন, এ বারের ভোট ‘প্রতিবাদের ভোট’, ‘প্রতিশোধের ভোট’।

    শীতলকুচি-সহ কোচবিহার জেলার জন্য রাজ্য সরকার কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, শীতলকুচির রথেরডাঙা, কাছাড়িহাট, নওদাবাসের মতো একাধিক এলাকায় নতুন সেতু নির্মাণ, ইংলিশ মিডিয়াম সরকারি স্কুল হয়েছে। কিষাণ মান্ডি নির্মাণ, শীতলকুচি ব্লকে খালসামারি এলাকায় কর্মতীর্থ করা হয়েছে। নতুন ফায়ার স্টেশন হয়েছে। অভিষেক বলেন, ‘এখানে অনেকেই তামাক চাষ ও আলু চাষের সঙ্গে যুক্ত। এখানকার নিকটতম হিমঘর মাথাভাঙায়। তাই আমাদের প্রার্থী জিতলে এখানে পৃথক হিমঘর তৈরি করা হবে।’

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে মেখলিগঞ্জ ও সিতাই আসনটি এসেছিল তৃণমূলের দখলে। বিজেপির শক্তঘাঁটিতে এ বার কোচবিহার থেকে আরও বেশি আসন জিতে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে তৃণমূল। অভিষেকের কথায়, ‘দৈনন্দিন জীবনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া, মানুষ হাত দিতে পারছে না। একদিকে বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়িয়ে মোদী নিচ্ছেন, অন্য দিকে, দিদি একের পর এক প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য করছেন, আপনাদের ঠিক করতে হবে কাদের সঙ্গে থাকবেন?’

  • Link to this news (এই সময়)