এই সময়: ২১–এর বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোটে কোচবিহারের শীতলখুচি বিধানসভার জোড়পাটকিতে কেন্দ্রীয় জওয়ানদের গুলিতে গ্রামের চারজন যুবক নিহত হয়েছিলেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সেই শীতলখুচিতেই ভিড়ে ঠাসা ময়দানে বুধবার নির্বাচনী সভা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভায় উপচে পড়া ভিড় দেখে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর অনেক সভা-সমিতি করেছি। তবে আজকে যে ভালোবাসা, স্নেহ দিয়ে আপনারা আমাদের বরণ করেছেন, তা দেখে আমি শীতলখুচির মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। যতদিন বেঁচে থাকব, আমি চেষ্টা করব এই ঋণ উন্নয়নের মাধ্যমে পরিশোধ করার।’ ২১-এর ঘটনা উপস্থিত জনতাকে মনে করিয়ে অভিষেক দাবি করেন, এ বারের ভোট ‘প্রতিবাদের ভোট’, ‘প্রতিশোধের ভোট’।
উল্লেখ্য, ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে সিআইএসএফের গুলিতে গ্রামের চার যুবক হামিদুল মিয়াঁ, মনিরুজ্জামান মিয়াঁ, সামিউল হক এবং নুর আলম হোসেন নিহত হলেও ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ১৭ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অভিষেক বলেন,‘আজকে যে সংখ্যায় মানুষ উপস্থিত হয়েছেন, তাঁরা যদি ২৩ তারিখ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তাহলে আগামী ১০ বছর এখানকার বিজেপি নেতাদের অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
রাজ্য সরকার শুধুমাত্র শীতলখুচি বিধানসভা এলাকায় গত পাঁচ বছর কী কাজ করেছে এদিন তার খতিয়ানও তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, ‘রথেরডাঙা, কাছাড়িহাট, নওদাবাসের মতো একাধিক এলাকায় নতুন সেতু নির্মাণ, ইংলিশ মিডিয়াম সরকারি স্কুল হয়েছে। কিষাণ মান্ডি নির্মাণ, খালসামারি এলাকায় কর্মতীর্থ করা হয়েছে। নতুন ফায়ার স্টেশন হয়েছে। অভিষেক বলেন, ‘এখানে অনেকেই তামাক ও আলু চাষের সঙ্গে যুক্ত। নিকটতম হিমঘর মাথাভাঙায়। তাই আমাদের প্রার্থী জিতলে এখানে পৃথক হিমঘর তৈরি করা হবে।’
বিজেপিকে একহাত নিয়ে এরপর তিনি বলেন, ‘পাঁচ তারিখ শুনছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কোচবিহারে আসছেন। ওইদিন উনি শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারবেন? চ্যালেঞ্জ রইল। এই জেলায় গত পাঁচ বছরে একজন গরিব মানুষকেও ঘরের টাকা দিয়েছেন? ১০০ দিনের কাজের মজুরি হিসেবে কারও অ্যাকাউন্টে দশ পয়সা দিয়েছেন? যদি দিয়ে থাকেন তাহলে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখব না।’
বিজেপির শক্তঘাঁটি শীতলখুচির সভায় রেকর্ড ভিড়ের সামনে অভিষেক আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে কখনও নোটবন্দির নামে, কখনও ভোটবন্দির নামে গরিব মানুষকে লাইনে দাঁড় করাচ্ছে। ‘সার’ করে মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে চাইছে । মোদীজি মানুষকে লাইনে দাঁড় করাতে ভালবাসেন। আগামী দিনে লাইনে দাঁড়িয়েই সব জবাব দিতে হবে।’ বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার পাল্টা বলেন, ‘তৃণমূলের সঙ্গে আর সাধারণ মানুষ নেই। তাই ওদের কোনও সভাতেই ভিড় হচ্ছে না। তৃণমূল নেতারা মুখে অনেক বড় বড় দাবি করছেন, কিন্তু ক’দিন পরেই সেই সব সভার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। তখন বোঝা যাচ্ছে, কেমন ভিড় হয়েছিল!’