• বিহারের বাসিন্দার নামও বাংলার ভোটার তালিকায়! তথ্য দিয়ে সরব তৃণমূল
    এই সময় | ০২ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: বিহারের ভোটার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম বাংলার ভোটার তালিকাতেও রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার তথ্য সমেত সেই ‘প্রমাণ’ পেশ করল রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূল ভবনে বুধবার দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সাংবাদিক বৈঠকে এর সপক্ষে চারটি উদাহরণ পেশ করেন। যদিও সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন,‘ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদনকারীকে মুচলেকা দিতে হয় যে, অন্য কোথাও ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। কেউ যদি অসততা করে ধরা পড়েন তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    শেষবেলায় ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকাতে ৩০ হাজারের বেশি ফর্ম–৬ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলে সিইও অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে সোমবার অভিযোগ করেছিলেন অভিষেক। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘২০২৫–এ বিহারের ভোটার তালিকায় সুলেখা কুমারীর নাম ছিল। বাংলায় ২৭৬ নম্বর বিধানসভা (দুর্গাপুর পূর্ব) কেন্দ্রেও তাঁর নাম রয়েছে। রমেশ যাদব এবং তাঁর ছেলে উমেশের নাম বিহারের দুটি কেন্দ্রে ভোটার তালিকায় রয়েছে। বাংলার ভোটার তালিকাতেও সেই নাম তোলা হয়েছে। একইরকম ভাবে বিহারের ভোটার তালিকায় শ্যামবাহাদুর যাদব, কুমুদ সিং এবং ডলি দেবীর নাম থাকা সত্ত্বেও বাংলাতে সেই নামগুলি রয়েছে।’ সুলেখা থেকে কুমুদ––এদের প্রত্যেকের বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের ভোটার কার্ড নম্বরের তথ্যও তুলে ধরেন ডেরেক এবং ব্রাত্য।

    ‘সার’ শুরু হওয়ার সময়ে নির্বাচন কমিশন বলেছিল মৃত, ডুপ্লিকেট এবং ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়া এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। কী ভাবে তা হলে বিহারের ভোটার তালিকায় নাম থাকা এতজনের নাম বাংলার ভোটার তালিকায় রয়েছে? সেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। ব্রাত্য বলেন, ‘এই লোকেরা হয়তো মহারাষ্ট্রে গিয়ে নামের সঙ্গে তেন্ডুলকর পদবী যোগ করেছেন। আবার হয়তো হরিয়ানাতে গিয়ে অন্য পদবী যোগ করেছেন। বিজেপি সব রাজ্যে এই ধরনের প্যাটার্ন তৈরি করেছে। এদের চিহ্নিত করার কাজ নির্বাচন কমিশনের, কিন্তু তৃণমূল সেই কাজ করছে।’

    জোড়াফুলের নেতৃত্বের বক্তব্য, বুথ স্তর পর্যন্ত তাঁদের যে সংগঠন, কর্মী বাহিনী রয়েছে তাঁরা এমন সন্দেহজনক ভোটারদের চিহ্নিত করছেন। প্রতিটি জায়গায় নজর রাখা হচ্ছে। ব্রাত্যর কথায়, ‘এটা বিহার, মহারাষ্ট্র নয়, বাংলা। বিহারের ভোটার ঢোকাবে আর বাংলার বাসিন্দাদের নাম কেটে বাদ দেবে––এটাই বিজেপির ছক। কিন্তু এখানে কেউ ঘুমোচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেব।’ তৃণমূলের এই অভিযোগ অবশ্য খারিজ করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ। ভোটে হারার আগে তৃণমূল এ সব অজুহাত রেডি করে রাখছে। আপনারা আদালতে গিয়ে তথ্য–প্রমাণ পেশ করুন।’ যদিও ডেরেকের বক্তব্য, ‘বিজেপি ভোটে জয়ী হওয়ার জন্য এ সব করছে না। ওরা জানে নির্বাচনী ভরাডুবি হতে চলেছে। সে জন্য মরিয়া হয়ে এই কাজ করছে।’ যদিও কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেউ তথ্য গোপন করে ভোটার তালিকায় নাম তুললে আইনমাফিক জেল এবং জরিমানা দুটোই হতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)