এই সময়: স্বপ্নভঙ্গ, হতাশা, অসহায়তা...কলকাতা–সহ দেশজুড়ে ‘উবর শাটল’ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকটা এমনই অবস্থা কমপক্ষে ৬০০ ব্যবসায়ীর। তাঁদের পরিবার, শাটল পরিষেবায় যুক্ত চালক ও সহায়ক মিলিয়ে কয়েক হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল উবর শাটল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে ঝাঁপ পড়ে গেল এই পরিষেবায়। বুধবারই শেষ পথে নেমেছে উবর শাটলের বাস।
বছর দুয়েক আগে কিছু টাকা ডাউন পেমেন্ট করে উবর শাটলে খাটানোর জন্য ৩৬ সিটার বাসটা কিনেছিলেন বেসরকারি পর্যটন–ব্যবসায়ী তরুণ মণ্ডল। তখন মনে হয়েছিল, সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। মনে হওয়াটা ভুলও ছিল না। কলকাতায় গণপরিবহণের অবনতির সুযোগে অ্যাপ–নির্ভর সার্ভিস প্রোভাইডাররা ভালোমতো ব্যবসা জমিয়ে নিচ্ছেন। শুরুর দিকে তরুণের ব্যবসাও জমেছিল। হঠাৎ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া যেন ‘গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়া’র নামান্তর।
ব্যবসায়ীদের একাংশ জানাচ্ছেন, কলকাতায় প্রায় ৮০০ বাস এই সার্ভিসে নিয়মিত পথে নামে। তরুণ বলেন, ‘২৬ আসনের এসি বাসের দাম ২৪ লক্ষ টাকা। এ ধরনের বাসের ইএমআই মাসে ৪০ থেকে ৪৫ হাজারের কাছাকাছি। আর ৪০ আসনের বাসের দাম ৩৬ লক্ষ টাকা, ইএমআই মাসে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এতদিন টাকাপয়সা নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি। কিন্তু এ বার তো গাড়ি বসে গেল, ইএমআই–এর টাকা মেটাব কী করে!’
কলকাতায় অ্যাপ–নির্ভর ক্যাব চালকদের সংগঠন ‘অনলাইন ক্যাব অপারেটর্স গিল্ড’–এর সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কয়েক বছর আগে যখন উবর শাটল পরিষেবা চালু হয়, তখন শহরে অ্যাপ ক্যাবের উপরে তার ভালোমতো প্রভাব পড়েছিল। অনেক ক্যাবচালক পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছিলেন, বহু গাড়িও বসে গিয়েছিল। এ বার শাটল বন্ধ করে কমপক্ষে ৬০০ ব্যবসায়ীকে বিরাট অর্থনৈতিক ধাক্কা দেওয়া হলো।’
এতদিন যাঁরা শাটলে গাড়ি খাটিয়েছেন তাঁরা জানাচ্ছেন, মূলত সোম থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলত। এক একটি বাস দিনে দুই থেকে তিনটি ট্রিপ করত এবং ট্রিপ–পিছু আড়াই হাজার টাকা পেতেন বাসের মালিক। এই টাকায় চালক ও তাঁর সহায়কের বেতন, জ্বালানি–খরচের পাশাপাশি গাড়ি সাফাইয়ের খরচ উঠত, মালিকের ইএমআই দিতেও সমস্যা হতো না। আর শনি–রবিতে অনেক গাড়িই উইক–এন্ড ট্রিপ বা অন্য ট্রিপে ভাড়া খাটত। শাটল বন্ধ হওয়ায় পুরো ব্যবস্থাটাই এখন এলোমেলো হয়ে গেল।
গিল্ডের দাবি, শহরের বেসরকারি পরিবহণ গত ক’বছরে অনেকটাই অ্যাপ–নির্ভর হয়ে পড়ায় এখন একটি আলাদা দপ্তর খুলুক রাজ্য পরিবহণ দপ্তর। এই নয়া দপ্তর শুধুমাত্র অ্যাপ–বেসড পরিষেবায় নজর রাখবে। না হলে আগামী দিনে এমন অব্যবস্থা হতেই থাকবে।