• বিরোধী-প্রতিবাদে সংসদে পাশ হল না এফসিআরএ বিল
    বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তালিকাভূক্ত করেও পিছিয়ে এলেন অমিত শাহ। বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে শেষমেশ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সংক্রান্ত বিল পাশের রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াল মোদি-শাহর সরকার। যদিও তারই মধ্যে প্রায় ফাঁকা ময়দানে বুধবার লোকসভায় সরকার পাস করে নিল দু’টি বিল। ‘দ্য অন্ধ্রপ্রদেশ রিঅর্গানাইজেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ এবং ‘দ্য জনবিশ্বাস (অ্যামেন্ডমেন্ট অব প্রভিশনস) বিল ২০২৬।’ আজ ২ তারিখ বাজেট অধিবেশনের শেষদিনে লোকসভায় পাশ হবে ‘দ্য সেন্ট্রাল আমর্ড ফোর্সেস (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) বিল ২০২৬।’

    এনজিও অর্থাৎ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদেশ থেকে যে অনুদান পায়, তার ওপর নজরদারি বাড়ানোই নয়। তাদের সম্পত্তি কব্জা করার ষড়যন্ত্রই সরকারের আনা নতুন ‘দ্য ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিলে’ (এফসিআরএ) উদ্দেশ্য বলেই বিরোধীদের অভিযোগ। তাই গত ২৫ মার্চ এই বিল পেশের সময় তো বটেই, বুধবার যাতে বিলটি পাশ না হয়, এদিন সকাল থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কেরলের সাংসদরা। রাজ্যে ইউডিএফ-এলডিএফ অর্থাৎ কংগ্রেস এবং বামেরা মুখোমুখি লড়াই করলেও মোদি সরকারের আনা এফসিআরএ বিলের বিরুদ্ধে সংসদ চত্বর থেকে লোকসভার অন্দর, সরব হন কেরলের সাংসদরা। সভা মুলতুবিও হয় একবার। 

    আরএসপি’র সাংসদ এন কে প্রেমচন্দ্রন জানান, এই বিলটি ভয়ঙ্কর। যদি কোনো কারণে কোনো এনজিও’র লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়, তাহলে তার যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে কেন্দ্র। বিদেশি অনুদান বন্ধর বিষয় তো আছেই। তাই আমাদের প্রতিবাদ। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে, সামনেই আগামী ৯ এপ্রিল কেরলে ভোট। দক্ষিণের এই রাজ্যে অনেক এনজিও’ই বিদেশ থেকে অনুদান পায়। তাই ভোটের আগে এই বিল পাশ করে কেরলের বিজেপি ভোটারদেরও বিরূপ করার ঝুঁকি দিতে চাইল না মোদি-শাহর সরকার। এনজিওর সঙ্গে তো সব দলেরই কমবেশি যোগাযোগ থাকেই। তাই আপাতত এফসিআরএ বিল ঠান্ডাঘরে পাঠানো হল। যদিও ‘ভাঙব তবু মচকাব না’র ধাঁচে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সংসদ চত্বরে বলেন, অন্ধ্রপ্রদেশ সংক্রান্ত বিলটি পাশ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। বিল পাশ না হলে অমরাবতীকে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির সংসদ-সিলমোহর পড়ত না। বাকি এফসিআরএ বিলটি আপাতত নয়। তবে বিল যখন পেশ হয়ে গিয়েছে, আগামীদিনে পাশও হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)