• নাম বাদের কারণ দেখাতে বাধ্য কমিশন, ভোটাধিকার চিরকালের জন্য কেড়ে নেওয়া যায় না, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
    বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: চিরকালের জন্য কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না! তালিকা থেকে কেন নাম বাদ গেল, ভোটারকে তা জানাতেই হবে। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার ১৭তম শুনানিতে নির্বাচন কমিশনকে এমনটাই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, জোকায় জলশক্তি মন্ত্রকের অফিস ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনে বসবে ট্রাইবুনাল। এছাড়াও নিউটাউন সহ ছটি জায়গায় চলবে নিষ্পত্তির কাজ। ‘বিচারাধীন’ তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের যাবতীয় তথ্য নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে সেখানে। সম্পূর্ণ নতুন কোনো ‘জেনুইন’ নথির ভিত্তিতে নাম অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা বিচার করবেন ট্রাইবুনালের বিচারপতিরাই। যদিও সুপ্রিম কোর্টে দাবি জানালেও আজ, বৃহস্পতিবার কাজ শুরু করতে পারছে না ট্রাইবুনাল। বুধবার সন্ধ্যায় এই সংক্রান্ত বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

    শিয়রে ভোট। আগামী ৬ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। নিয়ম হল, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্তই যাদের নাম তালিকায় থাকবে, তারাই এবার ভোট দেওয়ার যোগ্য। দ্বিতীয় দফা মনোনয়নের শেষ দিন ৯ এপ্রিল। ফলে এবার ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বর্তমানে ‘বিচারাধীন’ ও ইতিমধ্যেই ‘ডিলিটেড’ তালিকায় থাকা ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। সেই প্রসঙ্গে এদিন মামলার শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, পশ্চিমবঙ্গের মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার বিচারাধীন। তার মধ্যে ৪৭ লক্ষ ৩০ হাজারের নিষ্পত্তি হয়েছে। ৭ এপ্রিলের মধ্যে যাবতীয় নিষ্পত্তি হয়ে যাবে বলেই জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। 

    যদিও এর মধ্যে কতজনের নাম অন্তর্ভুক্ত আর কত বাতিল, স্পষ্ট করেনি কমিশন। মামলার অন্যতম আবেদনকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর আছে, নাম অন্তর্ভুক্তির হার ৫৫ শতাংশ। আর বাতিলের হার ৪৫ শতাংশ। ফলে এই বিপুল পরিমাণ ডিলিটেড ভোটারদের বিষয়টি কীভাবে মনোনয়নের আগে নিষ্পত্তি হবে?’ ওয়াকিবহাল মহলেরও প্রশ্ন, মনোনয়ন জমার শেষ দিনের আগে যাদের নাম উঠবে না, তারা ট্রাইবুনালের ছাড়পত্র পেলেও ভোট দিতে পারবেন কি? কপিল সিবালের মতো আইনজীবীর প্রত্যাশা, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চয় কোনো সুরাহার সন্ধান দেবে। 

    কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু বলেন, ‘হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করব, ৬ এপ্রিলের মধ্যে যাবতীয় নিষ্পত্তি করতে।’ তখনই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, ‘দু’টি বিষয় উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণ। দ্বিতীয়, যে তালিকায় এবার ভোট হবে। মনোনয়নের শেষদিন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভোটাররাই ভোট দেওয়ার অধিকারী। মনে রাখবেন, কারও ভোটাধিকার চিরকালের জন্য কেড়ে নেওয়া যায় না!’ বিচারপতি বাগচীর মন্তব্যের জবাবে কমিশনের আইনজীবীর মুখে কথা সরেনি। বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দেন, আগামী ৬ এপ্রিল বিকাল চারটেয় পরবর্তী শুনানি হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)