প্রীতেশ বসু, চন্দ্রকোণা: পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা বিধানসভায় (খানাকুল লোকসভার অন্তর্গত) তৃণমূল এবার প্রার্থী করেছে সূর্যকান্ত দলুইকে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। বিধানসভার প্রার্থী হিসাবে নতুন মুখ। নবীন প্রার্থীকে পেয়ে তৃণমূল সমর্থকরা তো বটেই, তার বাইরের মানুষজনও খুশি। এটাই বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে কাঁসাই-শিলাবতী অববাহিকার কৃষিনির্ভর এই চন্দ্রকোণা বিধানসভায়। ভোটের বাজারে সদা হাস্যময় সূর্যকান্তের তেজ টের পাচ্ছে বিজেপিও। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী করেছে সুকান্ত দলুইকে। তিনি মেনেও নিলেন বিষয়টি। তাঁর কথায়, ‘সূর্যকে প্রার্থী করায় ওদের দলের লাভ হয়েছে। তৃণমূল এবার প্রার্থী বদল না করলে লড়াইটা একটু হলেও সহজ হত।’
২০১৬ থেকে ২০২৬—তিনটি বিধানসভা ভোটেই ঘাটাল মহকুমার এই কেন্দ্রে নতুন মুখে ভরসা রেখেছে তৃণমূল। ২০১১ সালে সিপিএমের হয়ে জিতে পরে তৃণমূলে যোগ দেন তৎকালীন বিধায়ক ছায়া দলুই। ২০১৬ সালে তিনিই তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। ২০২১-এ আসেন অরূপ ধাড়া। তবে এবার অরূপের জায়গায় ৪৪ বছরের সূর্যকে টিকিট দিয়েছে দল। চন্দ্রকোণা টাউন বাসস্ট্যান্ডের বাইরে প্রার্থীর ছবি দেওয়া তৃণমূলের ব্যানার। তার নীচে চা- পাউরুটির দোকান। ব্যানার দেখিয়ে সেই দোকানদার বললেন, ‘ইনি নতুন প্রার্থী। একেবারে মাটির মানুষ। সেদিন আমাদের এলাকায় গিয়েছিলেন। পঞ্চায়েতের কাজ করতেন। পরে ব্লকের সভাপতি, সহ সভাপতি হয়েছেন। আমরা ভালোভাবে চিনি।’
বিজেপি প্রার্থী এলাকায় অনুন্নয়নের অভিযোগ তুলে প্রচার চালাচ্ছেন। বেশ কিছু এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে যাওয়ার কথা প্রচারে বলছেন তিনি। তৃণমূল প্রার্থীর পালটা যুক্তি, রাজ্যের হাজার অনুরোধ সত্ত্বেও ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের এক টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। বিজেপি আগে তার জবাব দিক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আজকের পরিস্থিতি অনেক উন্নত বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, ‘কী ছিল আর এখন কতটা ভালো পরিস্থিতি, সেটা এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জেনে নিয়ে মন্তব্য করা উচিত।’
ভোটকুশলীদের মতে, এখনও প্রচারের অনেক বাকি। তবে জয় নিশ্চিত তৃণমূলের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১-এর ভোটে তৃণমূল এখানে জিতেছিল ১১ হাজার ২৮১ ভোটে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ৮ হাজার ৩৫ ভোটে। এবার মার্জিন বাড়ানোর টার্গেট নিয়ে ঝাপিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ৩২৯টি বুথেই মানুষের দোরে পৌঁছে উন্নয়নের পাঁচালী তুলে ধরছেন সূর্য। পাল্লা দিয়ে চলছে কর্মিসভাও। এখানে সুপর্ণা দলুইকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। আর কংগ্রেসের প্রার্থী মেনকা মিদ্দা। তবে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নজর রয়েছে ভগোবন্তপুর এলাকার দিকে। কারণ, জয়ের ব্যবধান অনেকটাই নির্ভর করে এই এলাকার উপর। এই এলাকার বাসিন্দাকেই এবার প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সব থেকে বেশি আলু উৎপাদনকারী বিধানসভা কেন্দ্র হল চন্দ্রকোনা। অধিক ফলনের কারণে আলুর দাম পড়ে যাওয়ার সমস্যাকে হাতিয়ার করছে বিজেপি। মঙ্গলবার এই বিধানসভা কেন্দ্রের জনসভা থেকে আলু চাষিদের বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বার্তা নিয়েই চাষিদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ঘাসফুল শিবির।