• ‘বাংলার ছেলেদের ভিন্ন রাজ্যে হত্যা করা হচ্ছে’, বিচার আপনাদের দিতে হবে: মমতা
    বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
  • অভিষেক পাল, নবগ্রাম: বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বললে অত্যাচার হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে। বাঙালিদের বাসে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। এমনকী হোটেলে থাকতে পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। খেতে দেওয়া হচ্ছে না। এই অত্যাচার কতদিন চলবে? মুর্শিদাবাদে এসে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির অত্যাচারের কথা মনে করালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কোথাও পরিযায়ী শ্রমিকদের কোনো বিপদ হলে আমরা তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসি। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বললে অনুপ্রবেশকারীর তকমা দেওয়া হচ্ছে। 

    বুধবার বীরভূমের নানুরে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচার সেরে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা বিধানসভায় চলে আসেন মমতা। সেখানে প্রার্থী প্রতিমা রজকের হয়ে জনসভা করেন। তারপর এদিন বিকেলে নবগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী প্রণবচন্দ্র দাসের হয়ে জনসভা করেন। দু’টি জায়গা থেকেই ভিন রাজ্যে শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের কথা বলেন তিনি।  মমতা বলেন, আমার বাংলায় দেড় কোটি ভিন রাজ্যের শ্রমিক আছে। আমরা তো কারও উপর অত্যাচার করি না। তাহলে বাংলার লোকজনকে দেখলে আপনারা কেন অত্যাচার করেন? বাংলায় কথা বললে নাকি অনুপ্রবেশকারী। তাহলে বর্ডার পাহারা দেয় কে? তার দায়িত্বে তো অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি। তাহলে অনুপ্রবেশ হয় কী করে। 

    বিজেপি পার্টিকে ‹নির্লজ্জ› বলে তীব্র কটাক্ষের পর মমতার সভাস্থল করতালিতে ফেটে পড়ে। মানুষের উচ্ছ্বাস নিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তিনি বলেন, একটা কান কাটা থাকলে তো লজ্জা হতো। দু’ কানই তো কাটা ওদের। বৈধ ভোটারদের লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার পরও লজ্জা নেই ওদের। ৩০ হাজার নতুন নাম ঢোকানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। বাংলার লোকের উপর ভরসা নেই। তাই বিহার থেকে, উত্তরপ্রদেশ থেকে ও রাজস্থান থেকে লোক এনে ভোট করানোর চেষ্টা করছে। বাংলার লোকের নাম নেই, অথচ ভোট দেবে কারা? যারা ট্রেনে করে আসবে! 

    তিনি এদিন উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেন হেরেছে বিহার? ট্রেনে করে হরিয়ানা থেকে লোক আনা হয়েছছিল ওখানে। কিন্তু ওরা ধরতে পারেনি। আমরা যা ধরতে পারি, অন্য রাজ্য সেটা পারে না। ওরা বলে, আমার নাকি ২০১১ সালের আগেই অনুপ্রবেশ করিয়ে ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ করে দিয়েছি। ওরে গাধার দল, সেই সময় তো বামফ্রন্টের সরকার ছিল। না আছে এদের শিক্ষা দীক্ষা, না জানে স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ জ্ঞান। এখানে এসে বক্তব্যের সময় সোনার বাংলা। আর এসআইআর করার সময়ে ওটা হত্যার বাংলা। জোর করে গণতন্ত্র হয় না। এভাবে পরিযায়ীদের উপর অত্যাচার করে বাংলাকে দখল করা যাবে না। 

    মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তরবঙ্গের আরও কয়েকটি জেলা এবং বিহারের চারটি জেলা নিয়ে বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত করেছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তিনি জানতে পেরে সেটা রুখে দিয়েছেন বলেই দাবি করেন মমতা। তিনি বলেন, আগামী দিনেও যাতে বাংলাকে ভাগ করতে না পারে এই দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। মমতাকে তোমরা আটকাবে, ক্ষমতা আছে? বিজেপির নেই ক্ষমতা। কারণ, মমতার সাথে আছে জনতা। 

    তিনি এদিন দলের নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নেতৃত্বকে বলব, একদল যেরকম ভোট প্রচার করবে, আর একদল গিয়ে এই ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মানুষকে সাহায্য করবেন। সাধারণ মানুষের দরখাস্ত নিয়ে আমরা ট্রাইবুনালে যাব। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের লড়াই চলবে। এসআইআরের প্রথম দিন থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন আমরা পাইনি। আমি বারবার করে বলেছিলাম চলো একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনে যাই,  মানুষের ভোটাধিকার ফেরানোর জন্য লড়াই করি। তা নয়, এখন দেওয়ালে বড় বড় করে নাম লিখছে। বিজেপিকে আক্রমণের পাশাপশি এদিন রাজ্য সরকারের ১০৫টি প্রকল্পের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা। তিনি বলেন, এত সামাজিক প্রকল্প কোনো দেশের সরকার করতে পারে না। গোটা দেশে কি, গোটা বিশ্বেও এত প্রকল্প হয়নি। সকল রাজ্যের সেরা, আমার এই বাংলার ভূমি।
  • Link to this news (বর্তমান)