• ‘জয় বাংলা’ শুনেই তেড়ে গেলেন দাদা, নন্দীগ্রামে হার বুঝেই মেজাজ বিগড়েছে: তৃণমূল
    বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
  • শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামে এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে জয়বাংলা স্লোগান শুনেই বেজায় চটলেন দাদা। সঙ্গে সঙ্গে কনভয় থামিয়ে গাড়ি থেকে রাস্তায় নেমে এলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী। তারপর তৃণমূল কর্মীদের দিকে তেড়েও গেলেন। সেই সময় পাল্টা তৃণমূল কর্মীরাও আরও জোরে জোরে স্লোগান দিতে থাকে। হইচই করে পড়ে যাওয়ায় আরও তৃণমূল সমর্থক ওখানে  জড়ো হন। মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। 

    বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন দীনবন্ধুপুর গ্রামের ঘটনা। বাসুলিমাতার মন্দির থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে দীনবন্ধুপুরে পিচ রাস্তার উপর ওই ঘটনা ঘটে। রাস্তার ধারে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের সমর্থনে ফ্লেক্স টাঙাচ্ছিলেন দলীয় কর্মী শেখ জাহির, কালোবরণ জানা, বিনয় জানা সহ আরও অনেকে। সেই সময় নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর কনভয় দীনবন্ধুপুর গ্রামে শেখ রাকিবুল নামে এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যাচ্ছিল। জয়বাংলা স্লোগান শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক। তারপর গাড়ি থেকে নেমে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

    দীনবন্ধুপুর ৫০ নম্বর বুথের শেখ রাকিবুল নামে একজন বিজেপি করায় তাঁকে একঘরে করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। তা জানতে পেরে এদিন বিজেপি প্রার্থী তাঁর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তার আগে দীনবন্ধুপুর ৪৯ নম্বর বুথে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ছিলেন মোসলেমা বিবি, ফরিদা বিবি, নিবেদিতা জানা, দীপালি দাস প্রমুখ। তাঁরা বলেন, গ্রামের লোকজন তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের সমর্থনে ফ্লেক্স টাঙাচ্ছিল। সঙ্গে কচিকাঁচারাও ছিল। ফ্লেক্স টাঙানোর সময় অতি উৎসাহী হয়ে কয়েকজন জয়বাংলা স্লোগান দিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় ওই রাস্তা ধরেই বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি যাচ্ছিল। তাঁকে লক্ষ্য করেই ওই স্লোগান দেওয়া হয়েছে ধরে নিয়েই বিজেপি প্রার্থী গাড়ি থামিয়ে গট গট করে বেরিয়ে আসেন। আধা সেনার কর্মীরাও গাড়ি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসেন। বিধায়ক হুমকির সুরে কথাবার্তা বলেন। তিনি কনভয় থামিয়ে এভাবে তেড়ে আসবেন  আমরা ভাবতেও পারিনি। আগামী ২৩ এপ্রিল ভোটে হার নিশ্চিত অনুমান করেই তাঁর মেজাজ গরম হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।

    ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে নন্দীগ্রামে উত্তেজনার পারদ ততই চড়ছে। প্রচারে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ছে না। এমনকি নির্বাচনি কার্যালয় খোলার ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাণ্ডপসরায় তৃণমূলের নির্বাচনি কার্যালয়ের ৩০মিটার দূরে বিজেপির নির্বাচনি কার্যালয় খোলা। ফ্লেক্স থেকে দেওয়াল লিখন, পাতাকা টাঙানো থেকে নির্বাচনি কার্যালয় খোলা সবেতেই টেক্কা দেওয়ার ছবি। আর তাতেই বিজেপি প্রার্থীর মাথা গরম বলে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বক্তব্য।

    ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন দীনবন্ধুপুর ৪৯ নম্বর বুথের তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য‌ হলেন শেখ আক্রাম। তাঁর বাড়ির উঠোনে পবিত্র করের সমর্থনে বেশকিছু ফ্লেক্স জড়ো করা আছে। এদিন সেখান থেকে ফ্লেক্স নিয়ে রাস্তার ধারে টাঙানোর সময় ওই ঘটনা ঘটে। আক্রাম সাহেব বলেন, ছেলেরা ফ্লেক্স টাঙাচ্ছিল। ওরা জয়বাংলা স্লোগান দিচ্ছিল। সেইসময় বিরোধী দলনেতার কনভয় চলে আসে। তিনি মেজাজ হারিয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে  হুমকির সুরে কথা বলেন। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, দলের প্রার্থীর সঙ্গে আমিও ছিলাম। দীনবন্ধুপুর গ্রামের রাকিবুল বিজেপি করায় তাঁকে একঘরে করা হয়েছে। জলের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে ফতোয়া জারি হয়েছে। এই খবর পেয়ে আমরা তাঁর বাড়িতে যাই। তখনই তৃণমূলের লোকজন নানারকম স্লোগান দিচ্ছিল। ওরা হারবে জেনে প্ররোচনা তৈরি করছে। আমরা এনিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি।
  • Link to this news (বর্তমান)